মালদ্বীপ এখন এক বড় আর্থিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। আগামী এপ্রিলের শুরুতেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক বন্ড পরিশোধ করতে হবে দেশটিকে। সরকার আশ্বস্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকলেও তার টেকসইতা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রিজার্ভ আছে, কিন্তু চাপও কম নয়
সরকার জানিয়েছে, সুকুক পরিশোধের জন্য প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রিজার্ভের বড় অংশ সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

গোপন ঋণচুক্তির আলোচনা
অভ্যন্তরীণভাবে সরকার একটি মার্কিন বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকার প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করেনি, তবুও এই আলোচনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুধুমাত্র রিজার্ভ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মিশ্র সংকেত
একদিকে সরকার বলছে অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল, অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই বার্তায় দ্বিধায় পড়ছেন। যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তবে নতুন ঋণের প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্ন উঠছে বাজারে। এই অনিশ্চয়তা মালদ্বীপের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
ঋণের বোঝা বাড়ছে দ্রুত
বিশ্বব্যাংক আগেই সতর্ক করেছিল, ২০২৬ সালে মালদ্বীপের ঋণ পরিশোধের চাপ এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যে দেশটির মোট সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মালদ্বীপের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুকুক পরিশোধ মালদ্বীপের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি সরকার সফলভাবে অর্থ জোগাড় করতে পারে, তবে বাজারে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় দেশটি শ্রীলঙ্কার মতো ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















