প্রতিদিনের শুরুতে এক কাপ কফি অনেকের কাছেই অপরিহার্য। তবে শুধু ক্লান্তি দূর করাই নয়, নিয়মিত কফি পান শরীরের বিভিন্ন দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই জানিয়েছেন এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানান, টানা ১৪ দিন প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি পান করলে শরীরে কিছু উপকারী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, তবে স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
লিভার ও বিপাকে ইতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞের মতে, নিয়মিত কফি পান লিভারের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি ফ্যাটি লিভার, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। কফিতে থাকা কিছু উপাদান লিভারে ক্ষতিকর দাগ বা স্কার টিস্যু জমা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া কফি শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে, ফলে শরীরে চর্বি পোড়ার হার বাড়ে। এটি ক্ষুধাও কিছুটা কমাতে পারে, যা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
:max_bytes(150000):strip_icc()/Health-GettyImages-1756987412-21874f182d31432f9ee288d9c83cf46c.jpg)
মস্তিষ্ক ও হজমে সহায়তা
কফির ক্যাফেইন মানসিক সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এটি ঘুমের বিকল্প নয়, তবে প্রয়োজনের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে কার্যকর হতে পারে।
হজমের ক্ষেত্রেও কফির ভূমিকা রয়েছে। এটি অন্ত্রের কার্যক্রমকে সক্রিয় করে এবং মলত্যাগের প্রবণতা বাড়াতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৯ শতাংশ কফি পানকারী কফি খাওয়ার পর বাথরুমে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেন।
তবে সতর্কতাও রয়েছে। যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) আছে, তাদের ক্ষেত্রে কফি পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত কফি পান করলে উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অ্যাসিডিটি বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা দিনে এক থেকে তিন কাপ ব্ল্যাক কফি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন, তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম ক্রিমার ব্যবহার এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















