ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অন্তত আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি এ কথা বলেন এবং একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে সশস্ত্র নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিতে পারে।
সম্প্রতি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা ভাবছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ এখনই শেষ হচ্ছে না
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিক থেকে ইতিমধ্যেই সফল হয়েছে, তবে চূড়ান্ত বিজয় এখনও অর্জিত হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা অনেকভাবে জিতেছি, কিন্তু এখনও যথেষ্ট জিতিনি। দীর্ঘদিনের এই হুমকি চিরতরে শেষ করতে আমরা আগের চেয়ে আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কি এই সপ্তাহেই শেষ হবে? জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, না। তবে তিনি যোগ করেন, খুব শিগগিরই।

তেলের বাজারে চাপ, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা কমে আসে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দেন।
তিনি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন সুরক্ষাধীন জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এমন শক্তভাবে আঘাত করব যে তারা কিংবা তাদের সহযোগীরা ওই অঞ্চলে আর কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালীকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ধরা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছে।

মার্কিন বিমান হামলার দাবি
ফ্লোরিডার ডোরালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযান ইতোমধ্যে ইরানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।
তার দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৌবাহিনীর ওপর বড় আঘাত হানা হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুদ্ধ শেষ করার আগে এখনও আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

বাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা
দিনজুড়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর দেখা গেছে। একদিকে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধের শেষ পর্যায় হয়তো কাছাকাছি, যাতে উদ্বিগ্ন জ্বালানি বাজার ও বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশ্বস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চলতেই থাকবে যতক্ষণ না ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কিংবা ইচ্ছা পুরোপুরি হারায়।
তিনি বলেন, যদি তারা আবার এই কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।
সামরিক লক্ষ্য প্রায় পূরণ, তবু অভিযান অব্যাহত
ট্রাম্পের দাবি, এই সামরিক অভিযানের বেশিরভাগ লক্ষ্য ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান অভিযানই শেষ নয়; বরং এটি বৃহত্তর কৌশলের সূচনা মাত্র।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















