দেশজুড়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত মেটাতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে জমি বা পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধ মাত্র সাত দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তার মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে মানুষের আদালতে ঘনঘন যেতে হবে না এবং ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।
পুলিশ স্টেশনেই দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির পরিকল্পনা
আইজিপি বলেন, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট যদি পুলিশ স্টেশনেই অবস্থান করেন, তাহলে অনেক সাধারণ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে পুলিশের সময় বাঁচবে, অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
তিনি বলেন, অনেক সময় জমি বা পাওনা টাকা নিয়ে ছোটখাটো বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকে। আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হয় না। কিন্তু থানায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে এসব বিষয় দ্রুত মীমাংসা করা যাবে।

আইনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে
আইজিপি জানান, বর্তমানে পুলিশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা কমে যাওয়া। কোনো ঘটনা ঘটলেই মানুষ তাৎক্ষণিক বিচার চায়। কিন্তু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়।
তার মতে, থানায় ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে কিছু বিষয় সঙ্গে সঙ্গে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের নেতিবাচক ধারণাও কমে আসবে।
মব সহিংসতা বন্ধে পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে আইজিপি বলেন, এসব কার্যকলাপ বন্ধ করতে পুলিশের পরিকল্পনা রয়েছে। বেকারত্বের কারণে অনেক সময় মানুষ বিভিন্ন দলের ডাকে মবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্মানিত কোনো মানুষ এসব মবের সঙ্গে জড়িত নয়। কিছু মানুষ সুযোগ নিয়ে মবের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।
চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত
আইজিপি জানান, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় যাদের নাম বারবার এসেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনীতি নয়, মানুষের সেবাই পুলিশের কাজ
পুলিশের সঙ্গে রাজনীতির সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলেও তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষের সেবা করা।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, পুলিশের কাছে সবাই সমান। পুলিশ সব সময় জনগণের বন্ধু।
থানায় আসা মানুষকে সম্মান দেখানোর নির্দেশ
আইজিপি আরও বলেন, থানায় আসা প্রতিটি মানুষকে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করতে হবে। কারও অভিযোগ আইনের আওতায় না পড়লেও তাকে যেন অসম্মান করা না হয়।
তিনি বলেন, অন্তত এক কাপ চা খাইয়ে বিদায় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে।

তদন্তে সময় দেওয়ার আহ্বান
তিনি বলেন, কিছু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করতে অনেক সময় ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। অতিরিক্ত চাপ দিলে ভুল বার্তা যায় এবং কখনও কখনও ভুল স্বীকারোক্তি বা ভুল অভিযোগপত্র দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ঘটে যাওয়া ‘জজ মিয়া নাটক’ও আংশিকভাবে অতিরিক্ত চাপের ফল ছিল।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















