লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। প্রবাস ফেরত এক ব্যক্তির করা এ মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী শাহাদাত পাটোয়ারী (৪৬)। তিনি লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলি অঞ্চল রামগঞ্জে সিআর মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ইছাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাগর হোসেন শুক্কুরকে।
বাদীর অভিযোগ কী
সৌদি আরব প্রবাসী শাহাদাত পাটোয়ারী জানান, তিনি প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের মদিনায় বসবাস করছেন এবং মাঝেমধ্যে দেশে আসেন। সম্প্রতি দেশে এসে পৈতৃক ভিটায় নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদীর দাবি, গত শনিবার ইফতারের পর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং চাঁদার টাকা চাওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহাদাত পাটোয়ারী ও তার স্ত্রীর কাছেও ৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পরে আবার ফোন করে একই দাবি পুনরায় জানানো হয়। এ সময় কয়েকজন সাক্ষীর সামনে ফোনের লাউড স্পিকারে কথোপকথন শোনানো হয় এবং এর আংশিক রেকর্ডও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে বাদী দাবি করেন।
বাদীর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে চাপও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাগর হোসেন শুক্কুর। তার দাবি, ২০০৯ সালে কারী বাজারে তার সাইকেল ও যন্ত্রাংশের দোকান ছিল। সে সময় শাহাদাত পাটোয়ারী প্রভাব খাটিয়ে তার দোকান ভাঙচুর করেন এবং তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হয়ে ২২ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
অভিযুক্তের ভাষ্য, বর্তমান মামলাটি তাকে হয়রানি করতেই করা হয়েছে এবং তিনি কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করেননি।
আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় তদন্ত
মামলার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশ থানায় এলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















