অন্তর্বর্তী সরকার আমলে চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের কর্মীরা রাজধানীর মতিঝিলে মানববন্ধন করে ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবি—অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল।
রোববার সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া কর্মীরা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাসে একটি “সংগঠিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর” প্রভাবে প্রায় ১০ হাজার ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিকল্পিতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, জোরপূর্বক বদলি করা হয়েছে এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
দাবির বিস্তারিত
কর্মীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করা;
নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা;
ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ করা;
অনিয়মের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন;
এবং এসব অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রতিবাদকারীরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, তারা সংঘাত চান না, তারা ন্যায়বিচার চান। বিশৃঙ্খলা নয়, সুশাসনই তাদের লক্ষ্য। তারা জানান, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও দাবি আদায়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অভিযোগ ও পরিস্থিতি
প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, মানবসম্পদ নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে। ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মীদের অবহেলা করা হয়েছে, হয়রানি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা পরিস্থিতিকে “পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক শুদ্ধি অভিযান” হিসেবে আখ্যা দেন। তাদের দাবি, অস্পষ্ট বা মনগড়া অভিযোগে অনেককে চাকরি থেকে সরানো হয়েছে, ইচ্ছামতো বদলি করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে।
তারা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব ভয়াবহ। হঠাৎ আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এতে শুধু জীবিকা নয়, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতি ও সামাজিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আন্দোলনের অবস্থান
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















