০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প

দেশে সরকারিভাবে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার এখন বেসরকারি খাতনির্ভর নীতি সহায়তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পাটশিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগে জোর

মন্ত্রী জানান, দেশের পাটশিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার সরাসরি নতুন পাটকল স্থাপনের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার নীতিতে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে পাটশিল্পকে আরও গতিশীল ও লাভজনক খাতে পরিণত করা।

পাট উৎপাদন বাড়াতে চলমান প্রকল্প

সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের পাটবীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। তবে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে না। বরং রাজস্ব বাজেটের আওতায় একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পাটচাষ এবং পাটবীজ উৎপাদনের অগ্রগতি ধরে রাখা যায়।

বন্ধ পাটকল চালুর অগ্রগতি

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের আওতাধীন ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ইজারার মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১৪টি পাটকলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিল বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি মিলগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন হলে উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইজারার আওতাভুক্ত বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করা সম্ভব হবে।

পাঁচটি মিল এখনও ইজারার বাইরে

তবে সব মিল ইজারার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার অবস্থান এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে পাঁচটি পাটকল এখনো ইজারা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনের পর তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, নতুন সরকারি পাটকল স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর করে তোলাই পাটশিল্প উন্নয়নের প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনা

নতুন সরকারি পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। বেসরকারি বিনিয়োগ ও ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্ধ পাটকল চালু করে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প

০৮:০১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

দেশে সরকারিভাবে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার এখন বেসরকারি খাতনির্ভর নীতি সহায়তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পাটশিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগে জোর

মন্ত্রী জানান, দেশের পাটশিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকার সরাসরি নতুন পাটকল স্থাপনের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার নীতিতে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে পাটশিল্পকে আরও গতিশীল ও লাভজনক খাতে পরিণত করা।

পাট উৎপাদন বাড়াতে চলমান প্রকল্প

সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নতমানের পাটবীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। তবে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে না। বরং রাজস্ব বাজেটের আওতায় একই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পাটচাষ এবং পাটবীজ উৎপাদনের অগ্রগতি ধরে রাখা যায়।

বন্ধ পাটকল চালুর অগ্রগতি

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের আওতাধীন ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ইজারার মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১৪টি পাটকলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিল বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি মিলগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এবং সেগুলো সম্পন্ন হলে উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইজারার আওতাভুক্ত বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু করা সম্ভব হবে।

পাঁচটি মিল এখনও ইজারার বাইরে

তবে সব মিল ইজারার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশন এলাকার অবস্থান এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে পাঁচটি পাটকল এখনো ইজারা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনের পর তাদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকারের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, নতুন সরকারি পাটকল স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর করে তোলাই পাটশিল্প উন্নয়নের প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনা

নতুন সরকারি পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই। বেসরকারি বিনিয়োগ ও ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্ধ পাটকল চালু করে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।