২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিয়াটল সিটি কাউন্সিল শহরের জোনিং বিধি পরিবর্তন করে প্রতিটি আবাসিক প্লটে চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজ। ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাস করেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি জমিতে সর্বোচ্চ ১০টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণ বৈধ করা হয়। একই ধরনের, যদিও তুলনামূলক কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ অনুসরণ করছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে. বি. প্রিটজকার।
এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে আবাসনের সামর্থ্য বাড়ানো। পরিকল্পনাটি মূলত “মিসিং মিডল” নামে পরিচিত আবাসন ধরনের ওপর জোর দেয়—যেমন টাউনহাউস বা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। এগুলো একক পরিবারের বাড়ির তুলনায় ঘনবসতিপূর্ণ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
আমাদের একজন গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ধরনের “মিসিং মিডল” আবাসনের পক্ষে কাজ করেছেন। অন্যজন হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন—এবং বাস্তবে এই ধরনের অধিকাংশ বাসস্থানে তাঁর প্রবেশাধিকারই থাকবে না। কারণ এই ভবনগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকবে, কিংবা বলা ভালো একটি অনুপস্থিত বৈশিষ্ট্য—এগুলো হবে সিঁড়িভিত্তিক ভবন, যেখানে লিফট থাকবে না। আর যেসব ভবনে লিফট থাকবে, সেগুলোর খরচ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি হবে। এর একটি কারণ ১৯৮৮ সালের একটি আইন, যা মূলত প্রবেশযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হলেও বাস্তবে এর কিছু অনিচ্ছাকৃত প্রভাব পড়েছে।
উত্তর আমেরিকায় বিল্ডিং বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের আমাদের গবেষণা বলছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন কয়েকটি দেশের একটি যেখানে এখনও সিঁড়িনির্ভর অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় লিফট বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু লিফটের সংখ্যাও এখানে সবচেয়ে কম। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটিরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ চলাচলসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন, কিন্তু মোট আবাসনের ৬ শতাংশেরও কম তাদের জন্য সহজপ্রবেশযোগ্য।

ইউরোপ ও অন্যান্য সমৃদ্ধ দেশে নতুন তিন বা চারতলা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে সাধারণত একটি সহজ লিফট থাকে, এমনকি আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ভবনে লিফট বসাতে নির্মাতারা অনীহা দেখান, কারণ এর অতিরিক্ত খরচ পুরো প্রকল্পের অর্থনৈতিক হিসাব নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি “দ্য কেলসি” নামের একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব আবাসন উন্নয়ন সংস্থায়ও—যেখানে আমাদের একজন কাজ করেন—লিফটের উচ্চ খরচ অনেক সময় সম্ভাবনাময় প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো ভেঙে দেয়।
যেসব নির্মাতা প্রবেশযোগ্যতার বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেন না, তাদের জন্যও সিঁড়িভিত্তিক ভবন সমস্যা তৈরি করে। বাসিন্দারা প্রতিদিন বারবার একাধিক তলা সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে আগ্রহী নন। ভবন দ্বিতীয় তলার বেশি হলে এমন প্রকল্প থেকে লাভের সম্ভাবনা নিয়ে নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাসও কমতে থাকে। আর যদি বাজেটে ব্যয়বহুল লিফটের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে অনেক প্রকল্পই আর বাস্তবায়িত হয় না। ফলে আবাসনের সরবরাহ কমে যায় এবং ভাড়া ও বাড়ির দাম বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে লিফট সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন না হলে, লিফটবিহীন টাউনহাউস বা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনই মূলত সাশ্রয়ী “মিসিং মিডল” আবাসনের একমাত্র কার্যকর রূপ হিসেবে থেকে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে লিফটের উচ্চ খরচ ও কম প্রাপ্যতার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। তবে ফেডারেল সরকারের হাতে সরাসরি যে একটি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা হলো ১৯৮৮ সালের ফেয়ার হাউজিং সংশোধনী আইন। এই আইনটি মূলত আবাসনে প্রবেশযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও বাস্তবে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে লিফট বসানোকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।
এই আইনে বলা হয়েছে, যেসব ভবনে অন্তত চারটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে সেখানে অবশ্যই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের জন্য একটি “প্রবেশযোগ্য পথ” থাকতে হবে। তবে এর বাইরে বিস্তারিত নির্দেশনা নেই। আইনে আরও বলা হয়েছে, আইনটি পাস হওয়ার কিছু আগে প্রকাশিত একটি বেসরকারি মানদণ্ড মেনে চললে এই শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
এখান থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব এবং ছোট ভবনের প্রবেশযোগ্যতার কাঠামো ভেঙে পড়ে। সেই মানদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলোতে নতুন ভবনের জন্য লিফটের কেবিনের ন্যূনতম আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন লিফট বসানো হয়—যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জন্য নির্ধারিত এই ন্যূনতম আকার বাস্তবে প্রবেশযোগ্যতার জন্য যতটা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বড়। কেন এমন আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে গেছে। ধারণা করা হয়, দরজার পাশে থাকা বোতাম চাপার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর ঘোরার জায়গা নিশ্চিত করতেই এই আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল। অথচ অন্য দেশগুলোতে বোতাম পাশের দেয়ালে বসানো হয়—ফলে ঘোরার প্রয়োজনই পড়ে না।
![]()
বিদেশে প্রবেশযোগ্যতার নিয়মের মূল কাঠামো প্রায় একই। ছোট ভবনের ক্ষেত্রে নির্মাতারা চাইলে লিফট না-ও বসাতে পারেন। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে নির্মাতারা খুব কমই এই সুযোগ ব্যবহার করেন, কারণ সেখানে লিফট তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং সহজে স্থাপনযোগ্য। ফ্রান্স বা জার্মানির মতো সমৃদ্ধ দেশে ছোট ভবনের জন্য একটি লিফট বসাতে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় করে প্রায় ৫০ হাজার ডলার খরচ হয় এবং প্রতিটি তলায় প্রায় ৩০ বর্গফুট জায়গা লাগে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এই খরচ প্রায় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং জায়গাও লাগে তার দ্বিগুণের বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এখন ধীরে ধীরে লিফটের উচ্চ খরচ ও আবাসনের সংকটের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। মেইন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ইতিমধ্যে সেই নিয়মগুলো পুনর্বিবেচনা করছেন, যেগুলো এই সমস্যার জন্য আংশিকভাবে দায়ী।
তবে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ফেয়ার হাউজিং সংশোধনী আইনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে লিফট কেবিনের ন্যূনতম আকারের মতো বিষয়গুলো পরিবর্তন করা কঠিন। ফলে নতুন ছোট অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে লিফটবিহীন নির্মাণের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের স্পষ্ট নির্দেশনা দেখাতে পারে যে আইনের প্রকৃত ব্যাখ্যায় কী বোঝা যায়—ছোট ভবনে হুইলচেয়ার উপযোগী লিফট থাকলে তা প্রবেশযোগ্যতা বাড়ায়, বিশেষ করে যখন পুরোপুরি লিফট না থাকার ঝুঁকি থাকে। এতে নির্মাতারা ছোট ভবনেও ছোট লিফট যুক্ত করতে বেশি আগ্রহী হবেন, যেখানে বর্তমানে তারা অনেক সময় লিফট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অবশ্য ফেডারেল সরকারের এই স্পষ্টীকরণ একদিনে দেশের লিফট বাজারের সমস্যা সমাধান করবে না। শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোকেও তাদের নিজস্ব নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। তাছাড়া বিদেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে খরচ বাড়ার পেছনে আরও নানা কারণ রয়েছে—যেমন ভবন কোডে স্ট্রেচার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা, অগ্নি নিরাপত্তার অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত বিধান, বৈশ্বিক যন্ত্রাংশ বাজারের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক বিচ্ছিন্নতা এবং শ্রম চুক্তি, যা লিফট স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নকে অন্য দেশের তুলনায় বেশি শ্রমনির্ভর করে তোলে।
স্টিফেন জেকব স্মিথ ও অ্যালি ক্যানিংটন 



















