১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
এআই দুনিয়ায় কম্পিউট শক্তির সংকট: বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির অর্থনীতি জুলাই আন্দোলনের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর কী অবস্থা? তানজানিয়ায় ভোটের পর রক্তঝরা অধ্যায়, সত্য চাপা দেওয়ার অভিযোগে সামিয়ার শাসন ঘিরে তীব্র বিতর্ক হামের টিকা আগে নেওয়া থাকলেও কি শিশুকে আবার দিতে হবে? এআই নিয়ে আলোচনায় স্থায়িত্ব হারিয়ে যাচ্ছে দেশের আমদানি-রফতানি দুই খাতেই মন্দা হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প

হরমুজ প্রণালি বন্ধে উপসাগরে আটকে প্রায় ১০ লাখ টন সার, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সারের ঘাটতির সম্ভাবনা, চাপ পড়বে কৃষিতে

ইরানের কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন সার বহনকারী ২০টির বেশি জাহাজ আটকে পড়েছে। এতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সারের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসাগরে আটকে ২০টির বেশি জাহাজ
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ২১টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অবস্থান করছিল। এসব জাহাজে ইউরিয়া, সালফার, ফসফেটসহ বিভিন্ন ধরনের সার বোঝাই ছিল।

এই জাহাজগুলোর মধ্যে পানামার পতাকাবাহী আফ্রিকান লরিকিট এবং মাল্টার পতাকাবাহী কিরান চায়না উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে জাহাজগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে।

পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে ৫২টি ফরাসি জাহাজ | আন্তর্জাতিক | Citizens Voice

গন্তব্য এশিয়ার দিকে
উপাত্ত অনুযায়ী চারটি জাহাজের গন্তব্য অজানা থাকলেও বাকি জাহাজগুলোর প্রায় অর্ধেকই এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে যাচ্ছিল।

জাহাজগুলোর মধ্যে
নয়টি জাহাজে প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার টন ইউরিয়া রয়েছে, যা কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার।
আটটি জাহাজে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার টন সালফার রয়েছে।
দুটি জাহাজে ১ লাখ ৫ হাজার টন ফসফেট রয়েছে।
আরেকটি জাহাজে ইউরিয়া ও ফসফেট উভয়ই রয়েছে, আর একটি জাহাজে অজ্ঞাত ধরনের সার বোঝাই আছে।

সালফারের সব অংশ কৃষিকাজে ব্যবহার না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদিত সালফারের বড় অংশই সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা  করে থাকে। গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও ...

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা
উপসাগরীয় দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল থেকে উৎপাদিত রাসায়নিক সারের বড় সরবরাহকারী। প্রতি বছর তারা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ৩ কোটি টন সালফার এবং ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদন করে।

বিশ্বের মোট সালফার সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি এবং ইউরিয়ার ৩০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি হয়।

সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা
পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। বন্ধের পর একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সারবাহী জাহাজ প্রণালি পেরিয়ে গেছে।

তবে ক্লেপারের অনুমান, যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই পথ বন্ধ থাকে, তাহলে সারের কাঁচামালের বার্ষিক সরবরাহ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, চীন, মরক্কো ও ভারতে সালফারের চালান ব্যাহত হয়েছে। একইভাবে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ইউরিয়ার সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ড্রাই বাল্ক বাজার তথ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মাদেলেইন ওভারগার্ড।

এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অঞ্চলটি তাদের মোট ইউরিয়ার ৪০ শতাংশ, সালফারের ৫৪ শতাংশ এবং অ্যামোনিয়ার ৭১ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

স্থলপথে পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প সমুদ্রপথও কার্যত নেই। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ থাকায় সারের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

BD Today | পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে ৫২টি ফরাসি জাহাজ

জাপানের পরিস্থিতি
জাপানও আমদানি করা রাসায়নিক সারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে দেশটির বড় অংশের সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আসে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে জাপানমুখী চালানে বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

তবে জাপান যেহেতু প্রায় সম্পূর্ণ ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট আমদানি করে, তাই হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় ও সারের দাম বাড়লে দেশটিও চাপের মুখে পড়তে পারে।

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে
জাপানি বাণিজ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিপিওর কর্মকর্তা আকিওশি কাওয়াশিমা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তে শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক থাকবে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

#হরমুজ_প্রণালি #সার_সংকট #মধ্যপ্রাচ্য #এশিয়ার_খাদ্য_নিরাপত্তা #বৈশ্বিক_বাণিজ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দুনিয়ায় কম্পিউট শক্তির সংকট: বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালি বন্ধে উপসাগরে আটকে প্রায় ১০ লাখ টন সার, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সারের ঘাটতির সম্ভাবনা, চাপ পড়বে কৃষিতে

১১:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন সার বহনকারী ২০টির বেশি জাহাজ আটকে পড়েছে। এতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সারের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসাগরে আটকে ২০টির বেশি জাহাজ
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে ২১টি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অবস্থান করছিল। এসব জাহাজে ইউরিয়া, সালফার, ফসফেটসহ বিভিন্ন ধরনের সার বোঝাই ছিল।

এই জাহাজগুলোর মধ্যে পানামার পতাকাবাহী আফ্রিকান লরিকিট এবং মাল্টার পতাকাবাহী কিরান চায়না উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে জাহাজগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার রয়েছে।

পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে ৫২টি ফরাসি জাহাজ | আন্তর্জাতিক | Citizens Voice

গন্তব্য এশিয়ার দিকে
উপাত্ত অনুযায়ী চারটি জাহাজের গন্তব্য অজানা থাকলেও বাকি জাহাজগুলোর প্রায় অর্ধেকই এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে যাচ্ছিল।

জাহাজগুলোর মধ্যে
নয়টি জাহাজে প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার টন ইউরিয়া রয়েছে, যা কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার।
আটটি জাহাজে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার টন সালফার রয়েছে।
দুটি জাহাজে ১ লাখ ৫ হাজার টন ফসফেট রয়েছে।
আরেকটি জাহাজে ইউরিয়া ও ফসফেট উভয়ই রয়েছে, আর একটি জাহাজে অজ্ঞাত ধরনের সার বোঝাই আছে।

সালফারের সব অংশ কৃষিকাজে ব্যবহার না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদিত সালফারের বড় অংশই সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা  করে থাকে। গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও ...

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা
উপসাগরীয় দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল থেকে উৎপাদিত রাসায়নিক সারের বড় সরবরাহকারী। প্রতি বছর তারা আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখ থেকে ৩ কোটি টন সালফার এবং ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন ইউরিয়া উৎপাদন করে।

বিশ্বের মোট সালফার সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি এবং ইউরিয়ার ৩০ শতাংশের বেশি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি হয়।

সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা
পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। বন্ধের পর একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সারবাহী জাহাজ প্রণালি পেরিয়ে গেছে।

তবে ক্লেপারের অনুমান, যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই পথ বন্ধ থাকে, তাহলে সারের কাঁচামালের বার্ষিক সরবরাহ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, চীন, মরক্কো ও ভারতে সালফারের চালান ব্যাহত হয়েছে। একইভাবে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ইউরিয়ার সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ড্রাই বাল্ক বাজার তথ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মাদেলেইন ওভারগার্ড।

এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অঞ্চলটি তাদের মোট ইউরিয়ার ৪০ শতাংশ, সালফারের ৫৪ শতাংশ এবং অ্যামোনিয়ার ৭১ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে।

স্থলপথে পরিবহনের সক্ষমতা সীমিত এবং হরমুজ প্রণালির বিকল্প সমুদ্রপথও কার্যত নেই। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ থাকায় সারের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হচ্ছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

BD Today | পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছে ৫২টি ফরাসি জাহাজ

জাপানের পরিস্থিতি
জাপানও আমদানি করা রাসায়নিক সারের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে দেশটির বড় অংশের সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে আসে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে জাপানমুখী চালানে বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

তবে জাপান যেহেতু প্রায় সম্পূর্ণ ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট আমদানি করে, তাই হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে পরিবহন ব্যয় ও সারের দাম বাড়লে দেশটিও চাপের মুখে পড়তে পারে।

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে
জাপানি বাণিজ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিপিওর কর্মকর্তা আকিওশি কাওয়াশিমা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তে শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক থাকবে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

#হরমুজ_প্রণালি #সার_সংকট #মধ্যপ্রাচ্য #এশিয়ার_খাদ্য_নিরাপত্তা #বৈশ্বিক_বাণিজ্য