জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বহিষ্কার
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা বিধিমালার ২০১৮ সালের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারকালীন সময়ে তিনি কোনো আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তামালিকা সুলতানাকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সোহেল রানা।
কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অপমান ও হুমকির অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে মন্তব্য করার পর ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও হুমকিমূলক ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। এতে ওই ছাত্রী অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

কঠোর শাস্তির দাবি
ঘটনাটিকে সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। তারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার কঠোর বিচার জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















