নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বিমানে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকালে ইস্তাম্বুল থেকে আসা তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় হঠাৎ করে বিমানের ডান পাশের ল্যান্ডিং গিয়ার থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা বিভাগ সক্রিয় হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিমানে ছিলেন ২৭৭ যাত্রী
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এয়ারবাস এ-৩৩০ মডেলের ওই বিমানে মোট ২৭৭ জন যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার পর দ্রুত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পরপরই ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়েটি পরিষ্কার এবং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কয়েকটি আগত ফ্লাইটকে অপেক্ষায় রাখা হয়।
নেপালে বিমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি
নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন ও সীমিত অবতরণ সুবিধার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগেও ২০১৫ সালে তুর্কি এয়ারলাইন্সের আরেকটি বিমান ঘন কুয়াশার মধ্যে কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে পিছলে গিয়েছিল। সেই ঘটনাতেও কেউ আহত হননি, তবে বিমানবন্দর কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরে ওই বিমানটি সরিয়ে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















