শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অর্থের মূল্য এবং বিনিয়োগের ধারণা শেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন জনপ্রিয় পানীয় ব্র্যান্ড পপির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালিসন এলসওর্থ। নিজের তিন সন্তানের নামে বিনিয়োগ হিসাব খুলে সেখানে ৫ হাজার ডলার করে জমা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, সন্তানদের নিজেদের পছন্দে শেয়ার কেনার সুযোগও দিয়েছেন, যাতে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক শিক্ষা নিতে পারে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অ্যালিসন জানান, তার সন্তানদের বয়স চার, সাত ও নয় বছর। তারা বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কৌতূহলী হয়ে উঠেছিল। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি ও তার স্বামী স্টিফেন এলসওর্থ তিনটি আলাদা বিনিয়োগ হিসাব খোলেন। সেখানে সন্তানদের জন্য ৫ হাজার ডলার করে রাখা হয়।
শেয়ারবাজারের ওঠানামার বাস্তবতা
অ্যালিসন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার খুব ভালো না যাওয়ায় তার সন্তানদের হিসাবে প্রায় ৬৫ ডলার ক্ষতি হয়েছে। আর এতেই শিশুরা অবাক হয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারছে, বিনিয়োগে লাভ যেমন আছে, তেমনি ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে।
![]()
তিনি জানান, সন্তানরা তুলনামূলক নিরাপদ এবং পরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের বড় কয়েকটি কোম্পানিও রয়েছে। এমনকি বড় সন্তানটি পপির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে একটি পানীয় কোম্পানির শেয়ারও কিনেছে, যাতে সে নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের “বিনিয়োগকারী” ভাবতে পারে।
কেন ৫ হাজার ডলার?
অ্যালিসনের মতে, খুব অল্প অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলে শিশুরা বাস্তব পরিবর্তন বা বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা ঠিকমতো বুঝতে পারে না। তাই তারা এমন একটি অঙ্ক বেছে নিয়েছেন, যা শিশুদের কাছে দৃশ্যমান পরিবর্তন তৈরি করবে এবং তাদের আগ্রহ ধরে রাখবে।
তিনি বলেন, সন্তানদের অর্থ নিয়ে সচেতন করে তুলতে হলে শুধু সঞ্চয় নয়, অর্থ কীভাবে বাড়ে সেটাও শেখানো জরুরি। তবে সেই শিক্ষাটা হতে হবে বয়স উপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক।
অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
পেপসিকোর কাছে প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারে পপি বিক্রির পর এলসওর্থ পরিবার নতুন আর্থিক বাস্তবতায় প্রবেশ করে। কিন্তু সন্তানদের কাছ থেকে বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে, বয়স অনুযায়ী সহজভাবে বোঝানোর পথ বেছে নিয়েছেন তারা।

অ্যালিসন বলেন, সন্তানদের এমনভাবে বড় করতে চান যাতে তারা অর্থের সঠিক ব্যবহার বুঝতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদের দায়িত্ব নিতে শেখে। একই সঙ্গে তারা যেন অহংকারী হয়ে না ওঠে, সেদিকেও নজর রাখছেন তিনি।
ব্যবসা থেকে বিলাসী জীবনেও পরিবর্তন
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পপি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। পরে বড় অঙ্কের চুক্তিতে ব্র্যান্ডটি বিক্রি হওয়ার পর এলসওর্থ পরিবার এখন নতুন জীবন উপভোগ করছে। পরিবার নিয়ে দীর্ঘ ইউরোপ ভ্রমণ, নতুন বাড়ি কেনা, ব্যক্তিগত রাঁধুনি রাখা—এসবেও খরচ করছেন তারা।
তবে বিলাসিতার মাঝেও সন্তানদের অর্থনৈতিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন অ্যালিসন। তার বিশ্বাস, ছোটবেলা থেকেই সঠিক আর্থিক শিক্ষা পেলে ভবিষ্যতে শিশুরা আরও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
শুধু অ্যালিসন নন, বিশ্বের আরও অনেক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সন্তানদের অল্প বয়স থেকেই বিনিয়োগ শেখানোর পক্ষে মত দিচ্ছেন। তাদের মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















