মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের নিজস্ব চাহিদা এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি উদ্বেগ
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন অনেক দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি সামনে এনেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘ সম্পর্ক
ভারত দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় পরিসরে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করে আসছে। বাংলাদেশে ভারতের ডিজেল সরবরাহের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ২০০৭ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই জ্বালানি সরবরাহ সড়ক, রেল এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দেশের চুক্তি ও চলমান সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৭ সালে ডিজেল কেনাবেচা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন অংশ নেয়। চুক্তির আওতায় নিয়মিতভাবে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ থেকেই জানানো হয়, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এখন সেই অনুরোধ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















