০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

কেরোসিন সরবরাহ ৪৮ শতাংশ বাড়াল ভারত, জ্বালানি সংকটে বিকল্প জ্বালানির পথে সরকার

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় রান্নার গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। দেশজুড়ে কেরোসিন সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। পাশাপাশি এক মাসের জন্য কয়লা ও বায়োমাস ব্যবহারে পরিবেশগত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে, যাতে জ্বালানি সংকটের চাপ সামাল দেওয়া যায়।

কেরোসিন সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান ত্রৈমাসিক বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন রাজ্যগুলিকে দেওয়া হচ্ছে। এই কেরোসিন জনবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না ও আলোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

এই বাড়তি বরাদ্দ এমন রাজ্যগুলিতেও পৌঁছাবে, যেগুলোকে এতদিন কেরোসিনমুক্ত হিসেবে ধরা হত। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি, গোয়া, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, অন্ধ্র প্রদেশ ও উত্তর প্রদেশ। রান্নার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার ফলে এসব রাজ্যে আগে কেরোসিনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

গ্যাস আমদানির উপর বড় নির্ভরতা

ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ রান্নার গ্যাস আমদানির মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশে প্রায় ২৫ হাজার গ্যাস পরিবেশকের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। কোথাও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কের কারণে বুকিং অনেক বেড়ে গেছে। তাই নাগরিকদের অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মজুত রুখতে নতুন নিয়ম

গ্যাস মজুত বা কালোবাজারি ঠেকাতে নতুন নিয়মও চালু হয়েছে। শহরে গৃহস্থালি গ্যাসের পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এই ব্যবধান বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ দিন।

একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা সীমিত করা হয়েছে যাতে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা অগ্রাধিকার পায়। তবে আংশিকভাবে আবার রেস্তোরাঁ, হোটেল ও রাস্তার খাবারের দোকানগুলিকে বাণিজ্যিক গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিকল্প জ্বালানির পথে রেস্তোরাঁ ও হোটেল

গ্যাসের উপর চাপ কমাতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক মাসের জন্য রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা খাতকে বায়োমাস, কেরোসিন, কয়লা ও বর্জ্যভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এতে করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানিতে যেতে পারবে এবং গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ছোট ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য ভোক্তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে পারে।

সরবরাহ পর্যবেক্ষণে জেলা কমিটি

সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি প্রতিদিন রাজ্য সরকারগুলিকে জানানো হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যাতে সরবরাহ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা যায় এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বা মজুত ঠেকানো যায়।

জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমন্বয় করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরোসিন সরবরাহ ৪৮ শতাংশ বাড়াল ভারত, জ্বালানি সংকটে বিকল্প জ্বালানির পথে সরকার

০৪:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় রান্নার গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। দেশজুড়ে কেরোসিন সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। পাশাপাশি এক মাসের জন্য কয়লা ও বায়োমাস ব্যবহারে পরিবেশগত বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে, যাতে জ্বালানি সংকটের চাপ সামাল দেওয়া যায়।

কেরোসিন সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান ত্রৈমাসিক বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন রাজ্যগুলিকে দেওয়া হচ্ছে। এই কেরোসিন জনবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না ও আলোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

এই বাড়তি বরাদ্দ এমন রাজ্যগুলিতেও পৌঁছাবে, যেগুলোকে এতদিন কেরোসিনমুক্ত হিসেবে ধরা হত। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি, গোয়া, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, অন্ধ্র প্রদেশ ও উত্তর প্রদেশ। রান্নার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার ফলে এসব রাজ্যে আগে কেরোসিনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

গ্যাস আমদানির উপর বড় নির্ভরতা

ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ রান্নার গ্যাস আমদানির মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে দেশে পৌঁছায়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সরকার জানিয়েছে, দেশে প্রায় ২৫ হাজার গ্যাস পরিবেশকের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। কোথাও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কের কারণে বুকিং অনেক বেড়ে গেছে। তাই নাগরিকদের অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মজুত রুখতে নতুন নিয়ম

গ্যাস মজুত বা কালোবাজারি ঠেকাতে নতুন নিয়মও চালু হয়েছে। শহরে গৃহস্থালি গ্যাসের পুনরায় বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় এই ব্যবধান বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ দিন।

একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা সীমিত করা হয়েছে যাতে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা অগ্রাধিকার পায়। তবে আংশিকভাবে আবার রেস্তোরাঁ, হোটেল ও রাস্তার খাবারের দোকানগুলিকে বাণিজ্যিক গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিকল্প জ্বালানির পথে রেস্তোরাঁ ও হোটেল

গ্যাসের উপর চাপ কমাতে পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক মাসের জন্য রেস্তোরাঁ ও আতিথেয়তা খাতকে বায়োমাস, কেরোসিন, কয়লা ও বর্জ্যভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এতে করে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানিতে যেতে পারবে এবং গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ছোট ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য ভোক্তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে পারে।

সরবরাহ পর্যবেক্ষণে জেলা কমিটি

সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি প্রতিদিন রাজ্য সরকারগুলিকে জানানো হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যাতে সরবরাহ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা যায় এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বা মজুত ঠেকানো যায়।

জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সমন্বয় করে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।