মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ওমানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি বন্দর খালি করা হয়েছে, আর ইরাকের জলসীমায় দুটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র চাপ তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওমানের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর খালি
ওমানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র মিনা আল ফাহাল বন্দর থেকে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর ঠিক বাইরে অবস্থিত এই বন্দর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বন্দরে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে। কারণ এখান থেকেই প্রতিদিন প্রায় দশ লাখ ব্যারেল ওমানি তেল রপ্তানি করা হয়।
ইরাকের জলসীমায় তেল ট্যাঙ্কারে হামলা
একই সময় ইরাকের উপকূলের কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হামলার মুখে পড়ে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী সেফসিয়া বিষ্ণু এবং মাল্টার পতাকাবাহী জেফিরোস নামের দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলার পরপরই ইরাক তাদের তেল টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে অঞ্চলটির তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ড্রোন হামলায় নতুন উত্তেজনা
ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে আঘাত লাগে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। কিছু ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। এই ঘটনার পর সালালাহ বন্দরের কন্টেইনার ও সাধারণ পণ্য টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে দেশটির অন্যান্য বন্দর স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

তেলের দামে তীব্র উত্থান
সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ব্রেন্ট তেলের দাম একদিনেই প্রায় দশ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জরুরি মজুত থেকে চারশো মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারে উদ্বেগ কমেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই এত বড় পরিমাণ মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন সংকট
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। এই জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরব উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে কিছু রপ্তানি চললেও হামলার ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক সেখানে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পাঠানোর পথ বেছে নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে শুধু হরমুজ প্রণালী নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানি কেন্দ্রও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















