পাকিস্তানের লেগ স্পিনার উসামা মির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্স দেখিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। মাত্র ৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়ে ফেলেছেন।
বৃহস্পতিবার ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬-এর ম্যাচে তার এই অসাধারণ বোলিংয়ে সিয়ালকোট ১১০ রানের বড় ব্যবধানে লাহোর ব্লুজকে পরাজিত করে।
রেকর্ড গড়া বোলিং স্পেল
উসামা মিরের ৮ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার এই বোলিং স্পেল এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো পাকিস্তানি বোলারের সেরা পারফরম্যান্স। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল সাবেক ফাস্ট বোলার সোহেল তানভীরের দখলে।
২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী আসরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে গিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে তানভীর নিয়েছিলেন ১৪ রানে ৬ উইকেট। সেই সময় আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন।
মিরের এই পারফরম্যান্সের ফলে তিনি এখন টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়া পাকিস্তানি বোলারদের একটি বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানি বোলারদের সেরা বোলিং
উসামা মির (সিয়ালকোট) – ৮ রানে ৬ উইকেট, লাহোর ব্লুজের বিপক্ষে, ২০২৬
সোহেল তানভীর (রাজস্থান রয়্যালস) – ১৪ রানে ৬ উইকেট, চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে, ২০০৮
মোহাম্মদ ইমরান (পেশাওয়ার) – ১৬ রানে ৬ উইকেট, রাওয়ালপিন্ডির বিপক্ষে, ২০২৩
মোহাম্মদ আমির (খুলনা টাইগার্স) – ১৭ রানে ৬ উইকেট, রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে, ২০২০
ফাহিম আশরাফ (ইসলামাবাদ ইউনাইটেড) – ১৯ রানে ৬ উইকেট, লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে, ২০১৯
বিশ্ব টি-টোয়েন্টিতেও উজ্জ্বল অবস্থান
উসামা মিরের এই পারফরম্যান্স তাকে বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেও সেরা বোলিংয়ের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। এই বোলিং স্পেল তাকে সর্বকালের সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকায় যৌথভাবে নবম স্থানে নিয়ে গেছে।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন ভুটানের বোলার সোনাম ইয়েশে। গত বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে সিয়ালকোট শক্তিশালী ২১১ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। বড় এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে লাহোর ব্লুজ।
এরপর বল হাতে উসামা মির একাই কার্যত প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তার দুর্দান্ত স্পেলে লাহোর ব্লুজ মাত্র ১০০ রানে অলআউট হয়ে যায় ১৪.২ ওভারে। ফলে সিয়ালকোট ১১০ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে।
এই ম্যাচজয়ী বোলিংয়ের জন্য উসামা মিরকে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা হয়।
উসামা মিরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
উসামা মির ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। সেই ম্যাচেই তিনি নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট হিসেবে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে আউট করেছিলেন।
এরপর তিনি মোট ১২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচেও অংশ নেন। সেই আসরে তিনি ইতিহাসের প্রথম কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবেও মাঠে নামেন।
পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এ পর্যন্ত তিনি এই ফরম্যাটে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন। ওয়ানডেতে ৪৩ রানে ৪ উইকেট তার সেরা বোলিং।
তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর থেকে পাকিস্তান দলের হয়ে আর মাঠে নামেননি তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উসামা মির ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল ওরচেস্টারশায়ারের সঙ্গে বহু বছরের একটি চুক্তি করেন। ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এই চুক্তি করেন তিনি। এর ফলে আপাতত তার পাকিস্তান জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কিছুটা বিরতিতেই রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















