০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত জ্বালানি বাস্তবতা, ধীর জ্বালানি রূপান্তরের মাশুলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়তেই জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, অনেক দেশে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে এমন সংকট আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবেই জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিশ্ববাজারে যায়। সাম্প্রতিক হামলার পর সেই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

অনেক সরকার ভোক্তাদের জন্য সরবরাহ সীমিত করার পাশাপাশি রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় জ্বালানির ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

Iran war shows up folly of slow energy transition | Reuters

ধীর জ্বালানি রূপান্তরের ঝুঁকি

বিশ্বের সরকারগুলো বহু বছর ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে জানে। ২০১৫ সালে প্রায় দুই শতাধিক দেশ কম কার্বন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণে অগ্রগতি খুবই ধীর।

এই ধীরগতির কারণেই এখনও অনেক দেশ পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলেই সেই নির্ভরতার ঝুঁকি প্রকাশ পায়।

অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নে

প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। দেশটির ব্যবহৃত পেট্রোল ও ডিজেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

এতে শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ কৃষিপণ্য পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলচালিত ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল।

অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

সীমিত মজুত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুত তুলনামূলক কম। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী দেশটির কাছে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানি মিলিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যেখানে অন্তত তিন মাসের মজুত থাকার কথা, সেখানে এই পরিমাণকে অনেক বিশেষজ্ঞই ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির মান সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো যায়।

বৈদ্যুতিক গাড়িই হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে পারলে এমন সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির মধ্যে ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংখ্যা এখনও খুবই কম।

বিশ্বের কিছু দেশে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সেখানে নতুন গাড়ির বড় অংশই বৈদ্যুতিক। তবে গাড়ির মোট বহরে এই পরিবর্তন পুরোপুরি প্রভাব ফেলতে সময় লাগছে।

ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন যদি ধীর গতিতে চলে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বারবার এমন অস্থিরতার মুখে পড়বে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা-অসুবিধা

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত জ্বালানি বাস্তবতা, ধীর জ্বালানি রূপান্তরের মাশুলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট

১১:৩৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের দুর্বলতা নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়তেই জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, অনেক দেশে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে এমন সংকট আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

যুদ্ধের প্রভাবেই জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিশ্ববাজারে যায়। সাম্প্রতিক হামলার পর সেই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

অনেক সরকার ভোক্তাদের জন্য সরবরাহ সীমিত করার পাশাপাশি রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেক এলাকায় জ্বালানির ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

Iran war shows up folly of slow energy transition | Reuters

ধীর জ্বালানি রূপান্তরের ঝুঁকি

বিশ্বের সরকারগুলো বহু বছর ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে জানে। ২০১৫ সালে প্রায় দুই শতাধিক দেশ কম কার্বন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণে অগ্রগতি খুবই ধীর।

এই ধীরগতির কারণেই এখনও অনেক দেশ পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। যুদ্ধ বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলেই সেই নির্ভরতার ঝুঁকি প্রকাশ পায়।

অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নে

প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। দেশটির ব্যবহৃত পেট্রোল ও ডিজেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

এতে শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই নয়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। কারণ কৃষিপণ্য পরিবহনের বড় অংশই ডিজেলচালিত ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল।

অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

সীমিত মজুত নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুত তুলনামূলক কম। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী দেশটির কাছে পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানি মিলিয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যেখানে অন্তত তিন মাসের মজুত থাকার কথা, সেখানে এই পরিমাণকে অনেক বিশেষজ্ঞই ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন।

সংকট মোকাবিলায় সরকার মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির মান সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো যায়।

বৈদ্যুতিক গাড়িই হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে পারলে এমন সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে নতুন বিক্রি হওয়া গাড়ির মধ্যে ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংখ্যা এখনও খুবই কম।

বিশ্বের কিছু দেশে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সেখানে নতুন গাড়ির বড় অংশই বৈদ্যুতিক। তবে গাড়ির মোট বহরে এই পরিবর্তন পুরোপুরি প্রভাব ফেলতে সময় লাগছে।

ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন যদি ধীর গতিতে চলে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতি বারবার এমন অস্থিরতার মুখে পড়বে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা-অসুবিধা