ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। নয়াদিল্লি কয়েক মাসের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত রাখতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত তদন্ত এবং শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তা দুই দেশের আলোচনায় নতুন জট তৈরি করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের সম্ভাবনা
ভারত আগে আশা করেছিল মার্চ মাসেই একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে। পরে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে এগোনোর পরিকল্পনা ছিল। ফেব্রুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার পর এই আশাবাদ তৈরি হয়।
সেই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছিল। বিনিময়ে ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি কমানো, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস এবং বিপুল পরিমাণ মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সময়সূচি কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/JamieMcCarthyStaff-1266462080-8a8194fdf69a46168532bab1aaf4451f.jpg)
নতুন তদন্তে বাড়ছে চাপ
ভারতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্ত বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে। এই তদন্তে ১৬টি দেশের উৎপাদন খাতের অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে।
ভারতের এক কর্মকর্তা জানান, এই অবস্থায় তাড়াহুড়া করে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা নেই। বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
সম্প্রতি আদালতের এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার পর আলোচনার গতি কমে যায়। এরপর আবার সব দেশের আমদানির ওপর সাময়িকভাবে নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ভারত এখন জানতে চাইছে, ভবিষ্যতে তাদের রপ্তানির ওপর কত শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। কারণ আগের সমঝোতা অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর তুলনামূলক কম শুল্ক আরোপের কথা ছিল।

জ্বালানি ও ভূরাজনীতির প্রভাব
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটও আলোচনাকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভারত আরও বেশি মার্কিন জ্বালানি কিনুক, যাতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের চাপ কমে।
তবে ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেনি, বরং কিছুটা কমিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিশ্রুতি পালনের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে তা উভয়ের জন্য লাভজনক হবে বলেও মনে করছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ধীরে এগোতে চাইছে। শুল্ক ও তদন্তের ফলাফল পরিষ্কার হওয়ার আগে কোনো বড় সিদ্ধান্তে যেতে দিল্লি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















