দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বেসরকারি খাতকে দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি তুলেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা স্বাভাবিক নয়, বরং নীতিগত ভুল ও অবাস্তব সিদ্ধান্তের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এমন একটি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা, এমনকি চেয়ারম্যানসহ, গত দশ থেকে বারো দিন ধরে ভুল তথ্য দিয়ে জ্বালানি সংকটের একটি কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।

বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের অমিল
পাম্প মালিকদের দাবি, সরকারিভাবে বলা হচ্ছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলোতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে জেটিতে তেলবাহী ট্যাংকার অপেক্ষা করছে, অথচ ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা নেই। ফলে পাম্পগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছে না।
এর ফলে দেখা যাচ্ছে, একটি চালান পাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বাড়ছে পরিবহন ব্যয়
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে অনেক ডিলারকে প্রায় দুইশ থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরের ডিপোতে যেতে হচ্ছে। সেখানে গিয়ে তেরো হাজার পাঁচশ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক লরি মাত্র চার থেকে ছয় হাজার লিটার তেল পাচ্ছে।
এর ফলে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত একই দামে তেল বিক্রি করতে হওয়ায় এই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না ডিলাররা।

সংকট কাটাতে বেসরকারি আমদানির প্রস্তাব
পাম্প মালিক সমিতি মনে করছে, গত দশ থেকে বারো দিনে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা বর্তমান ব্যবস্থায় এক মাসেও পূরণ করা সম্ভব হবে না।
এই পরিস্থিতিতে সরকার যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানিতে বিলম্বের মুখে পড়ে, তাহলে সক্ষম বেসরকারি ব্যবসায়ীদের দ্রুত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর সেই জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা হলে চলমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















