ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রতিকান্ত জয়ধর (৪৬) নামের এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতী নদী থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পলোটানা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও বসতবাড়ি বিক্রি করে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পথে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আট বছর আগে রতিকান্তের স্ত্রী উজ্জলী জয়ধর চার সন্তানকে নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চলে যান। এরপর থেকে রতিকান্ত মাঝে মধ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তিনি স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং গত মঙ্গলবার বাড়ি থেকে রওনা দেন। তবে কীভাবে বা কার মাধ্যমে তিনি সীমান্ত পার হবেন, তা পরিবারের কাউকে জানাননি।
বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর থানা থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছোট ভাই রণজিৎ জয়ধর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

লাশ উদ্ধার ও পুলিশের বক্তব্য
মহেশপুর থানার ওসি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইছামতী নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় এবং পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মরদেহের সঙ্গে থাকা পাসপোর্ট দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, রতিকান্তের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে ঘাড়ের বাঁ পাশ, পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
বিজিবির বক্তব্য
৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, স্থানীয়রা প্রথমে নদীতীরে দুর্গন্ধ টের পান এবং পরে কচুরিপানার নিচে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান। বিজিবি সদস্যরা নিশ্চিত হন, লাশটি বাংলাদেশের ভেতরে নদীতে ভাসছিল। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরবর্তী ব্যবস্থা
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং গ্রামের বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও অবৈধ পারাপার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















