দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে উপকূল বা সীমান্তপথ ব্যবহার করে তেল পাচার করা না যায়।
সীমান্ত এলাকায় অভিযান ও জব্দের চিত্র
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭টি সীমান্তবর্তী জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ড পৃথক অভিযানে ৮৫ হাজার লিটার ডিজেল ও ৫ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করে ৫১ জনকে আটক করেছে।
চট্টগ্রাম উপকূলে বিশেষ অভিযান
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপকূলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। একই ঘটনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার ও নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়। এর আগে কর্ণফুলী নদী থেকেও বিপুল পরিমাণ ডিজেল জব্দ করা হয়েছিল।

দেশব্যাপী অভিযানের সামগ্রিক চিত্র
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সারাদেশে ৯ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটারের বেশি জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে হাজার হাজার মামলা দায়ের এবং কোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব
বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার ফলে বাজারে সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে—তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে এবং চাহিদা বাড়ছে।
পুলিশের অভিযানে নতুন তথ্য
মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত দেশের ২২ জেলায় অবৈধ তেল মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, কক্সবাজারসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মজুতের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কোস্টগার্ডের সমন্বিত অভিযান
কোস্টগার্ড স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করেছে। চট্টগ্রাম, মোংলা, ভোলা, হাতিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আইন ও শাস্তির বিধান
পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া বা অনিরাপদ স্থানে জ্বালানি তেল মজুত করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রতিটি জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। অবৈধ মজুতদারদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হবে না।
সংকটের মূল কারণ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব—সব মিলিয়ে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। ডিপোগুলোতে সরবরাহ কম থাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র অবৈধ মজুত ও পাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















