ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বড় আর্থিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ভবিষ্যতের আসর নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার প্রস্তাব ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ছোট টুর্নামেন্ট থেকে বৈশ্বিক মহাযজ্ঞ
বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল অনেক সীমিত পরিসরে। একসময় ১৬টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করত ফিফা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা, আর্থিক মূল্য এবং বৈশ্বিক প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে এখন ৪৮ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
ফিফার প্রাথমিক যুগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইভো শ্রিকার বিশ্বকাপের সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন অনেক আগেই। তাঁর মতো কর্মকর্তাদের দূরদর্শিতার ফলেই বিশ্বকাপ আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিপুল রাজস্ব আয়কে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার আয় হতে পারে, যা ২০২২ সালের আসরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এই বিপুল অর্থ ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্যও বড় সুবিধা বয়ে আনে। ফলে আরও বেশি দলকে সুযোগ দেওয়া এবং টুর্নামেন্ট সম্প্রসারণের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে।
৬৪ দলের বিশ্বকাপের পক্ষে দক্ষিণ আমেরিকা
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কর্তৃপক্ষ ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করতে চায়। তাদের মতে, শতবর্ষ উদযাপনের জন্য বড় পরিসরের আয়োজনই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।
এই লক্ষ্যেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপের প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি দেশ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বাড়ছে সমালোচনাও

তবে সবাই এই পরিকল্পনার পক্ষে নয়। অনেক ফুটবল প্রশাসকের মতে, অতিরিক্ত দল যুক্ত হলে প্রতিযোগিতার মান কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের ওপর চাপও বাড়বে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, বিশ্বকাপ যত বড় হবে, ততই বাণিজ্যিক স্বার্থ গুরুত্ব পাবে এবং খেলার মান, খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আড়ালে পড়ে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
ফিফা এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে আরও বেশি দল, আরও বেশি ম্যাচ, আরও বেশি সম্প্রচার চুক্তি এবং আরও বেশি অর্থ আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে বিশ্বকাপের সম্প্রসারণের গতি থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বকাপ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বড়, শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। আর সেই যাত্রা আগামী বছরগুলোতে আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















