ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে এবার দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লিভারপুল থেকে কোনো খেলোয়াড় জায়গা পাননি মূল দলে। তরুণ রিও এনগুমোহা প্রস্তুতি শিবিরে থাকলেও চূড়ান্ত দলে নেই অ্যানফিল্ডের কোনো প্রতিনিধি। এতে ক্লাবটির খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া ও সাম্প্রতিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ঐতিহ্যে বড় বিরতি
ইংল্যান্ড জাতীয় দলে লিভারপুলের অবদান সবসময়ই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে স্টিভেন জেরার্ড, মাইকেল ওয়েন, জন বার্নস, রজার হান্টসহ অনেক তারকা দেশের জার্সিতে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন। এমনকি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবেও লিভারপুলের একাধিক ফুটবলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলে লিভারপুলের কোনো বর্তমান খেলোয়াড়কে বেছে নেননি ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল।
কেন পিছিয়ে পড়ল লিভারপুল?
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মৌসুমে লিভারপুলের কয়েকজন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। জো গোমেজ ও কার্টিস জোনসের মতো ফুটবলারদের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি।
অন্যদিকে তরুণ ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে মৌসুমের শুরুতেই অন্য ক্লাবে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেকের মতে, কঠিন সময়ে তাকে দলে রাখা হলে লিভারপুল উপকৃত হতে পারত।
প্রতিভা তৈরিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের এগিয়ে থাকা
ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে নজর দিলে দেখা যায়, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলো বেশি সংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনছে। সেখানে লিভারপুলের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত।

ফলে ভবিষ্যতের জাতীয় দল গঠনের ক্ষেত্রেও ক্লাবটি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
তবে এই পরিস্থিতিকে স্থায়ী সংকট হিসেবে দেখছেন না অনেকেই। অতীতেও এমন সময় এসেছে যখন বিশ্বকাপে লিভারপুলের প্রতিনিধিত্ব কম ছিল, কিন্তু পরবর্তী আসরগুলোতে আবার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছে ক্লাবটি।
তরুণদের উন্নয়নে নতুন করে গুরুত্ব দিলে আগামী বছরগুলোতে আবারও ইংল্যান্ড দলে লিভারপুলের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। ইতিহাস বলছে, লিভারপুল বহুবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আর এবারও সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় সমর্থকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















