যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তার সদ্য প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর ও আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুজন একই গাড়িতে যাত্রা করলেও তাদের কথোপকথন ছিল সীমিত এবং বেশ অস্বস্তিকর।
অভিষেকের পথে নীরবতা
স্মৃতিকথায় জিল বাইডেন লিখেছেন, দুই নারীর মধ্যে আগে থেকেই খুব একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ঘটনার কারণে তাদের দূরত্ব আরও বেড়েছিল। অভিষেক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সেই অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন মিনেসোটার এক সিনেটরের স্বামী জন বেসলার। তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে পরিবেশ হালকা করার চেষ্টা করেন। জিল বাইডেনের মতে, সেদিনের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্বগুলোর একটি ছিল এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া।

ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত উত্তর
যাত্রাপথে জিল বাইডেন মেলানিয়া ট্রাম্পের বাবার খোঁজখবর নেন। জবাবে মেলানিয়া সংক্ষিপ্তভাবে জানান, তার বাবা ভালো আছেন। পরে পরিবারের অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয়।
এক পর্যায়ে পরিবারের পোষা প্রাণী নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মেলানিয়া জানান, তাদের পরিবারে কখনও কুকুর ছিল না। ছেলে ব্যারন ট্রাম্পও কুকুর রাখতে আগ্রহ দেখায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জিল বাইডেনের বর্ণনায়, মেলানিয়া বেশিরভাগ সময় ছোট ছোট উত্তর দিয়েছেন এবং বারবার আবহাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন।
সম্পর্কের দূরত্বের কারণ
স্মৃতিকথায় জিল বাইডেন ইঙ্গিত দেন যে দুই পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ব্যক্তিগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছিল। তিনি মনে করেন, অতীতের কিছু বিতর্ক ও তদন্তকে ঘিরে মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যে ক্ষোভের অনুভূতি ছিল।
তবে সেই পরিস্থিতির প্রতিও তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মতো ঘটনা যে কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে, তা তিনি উপলব্ধি করেন।
হোয়াইট হাউস ছাড়ার শেষ মুহূর্ত
জিল বাইডেন আরও জানান, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য হাতে লেখা একটি চিঠি এবং ফুল রেখে গিয়েছিলেন। পরে একটি আলাদা চিঠি সেখানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি জেনে তিনি বিস্মিত হন।
অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে তিনি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেষবারের মতো সরকারি হেলিকপ্টারে চড়ে ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। অবতরণের পর শত শত সমর্থক তাদের বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন। সেই মুহূর্তকে তিনি আবেগঘন ও স্মরণীয় বলে বর্ণনা করেছেন।
জিল বাইডেনের এই স্মৃতিচারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিনের অন্তরালের কিছু অজানা মুহূর্ত সামনে নিয়ে এসেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















