০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

ডলারের বাজারে নতুন চাপ, দুর্বল হচ্ছে টাকার মান—যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অর্থনীতি

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে ডলারের বাজার। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে এবং টাকার মানেও দুর্বলতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের শুরুতে যেখানে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা ছিল, সেখানে সপ্তাহের শেষ দিকে তা বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে।

একই সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউসেও ডলারের দাম বেড়ে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকলেও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তার সংকেত তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই অনেক ব্যাংক এখন ডলার লেনদেনে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত ডলারের দর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মার্চে এসে তা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণেই ব্যাংকগুলো কিছুটা বেশি দামে ডলার লেনদেন করছে।

এলসি খোলায় বাড়তি চাপ

ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের ওপর পড়তে শুরু করেছে। অনেক শিল্পগোষ্ঠী জানাচ্ছে, এখনও বাজারে ডলারের বড় ঘাটতি তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে।

এলসি খোলার সময় অনেক ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা পর্যন্ত চাইছে। ভবিষ্যৎ চুক্তির ক্ষেত্রে এই দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়ে। তাই বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা আবারও বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

মানি এক্সচেঞ্জ ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লাভ করতে পারবে

ব্যাংকভেদে ভিন্ন ডলার দর

দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ঘোষিত ডলারের দরেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ডলার বিক্রির দর নির্ধারণ করেছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রি করছে প্রায় ১২২ টাকা ৯৫ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংক বিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ডলার বিক্রির দর নির্ধারণ করেছে প্রায় ১২২ টাকা ৯৯ পয়সা। আর মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে প্রায় ১২২ টাকা ৯০ পয়সায়।

ব্যাংকারদের মতে, সব ব্যাংকের কাছে সমানভাবে ডলার আসছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্যের কারণে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দর নির্ধারণ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বাজারে সরাসরি ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি সীমিত রাখার কারণে বাজারে ডলারের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একইসঙ্গে বাজার থেকে ডলার কেনাও আপাতত বন্ধ রেখেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চের শুরু পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে পাঁচ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

বেসরকারি ৪ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

জ্বালানি বাজারে নতুন ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি চাহিদা পরিকল্পনা, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সতর্ক নীতি গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে।

একই সময়ে রফতানি আয় কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি বাড়া এবং রফতানি কমার কারণেই এই চাপ তৈরি হয়েছে।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি

তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে দেশে প্রায় ১৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

এই প্রবাহের কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৮ বিলিয়ন ডলার | The Daily Star

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখা এবং রিজার্ভ ধরে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে, বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে এবং টাকার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

ডলারের বাজারে নতুন চাপ, দুর্বল হচ্ছে টাকার মান—যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অর্থনীতি

০৩:১৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকলেও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আবারও অস্থির হয়ে উঠছে ডলারের বাজার। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে এবং টাকার মানেও দুর্বলতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের শুরুতে যেখানে প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা ছিল, সেখানে সপ্তাহের শেষ দিকে তা বেড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে।

একই সময় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ হাউসেও ডলারের দাম বেড়ে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো থাকলেও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে বাজারে অনিশ্চয়তার সংকেত তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই অনেক ব্যাংক এখন ডলার লেনদেনে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত ডলারের দর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মার্চে এসে তা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণেই ব্যাংকগুলো কিছুটা বেশি দামে ডলার লেনদেন করছে।

এলসি খোলায় বাড়তি চাপ

ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের ওপর পড়তে শুরু করেছে। অনেক শিল্পগোষ্ঠী জানাচ্ছে, এখনও বাজারে ডলারের বড় ঘাটতি তৈরি হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে।

এলসি খোলার সময় অনেক ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা পর্যন্ত চাইছে। ভবিষ্যৎ চুক্তির ক্ষেত্রে এই দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। ফলে আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়ে। তাই বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা আবারও বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।

মানি এক্সচেঞ্জ ডলারপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লাভ করতে পারবে

ব্যাংকভেদে ভিন্ন ডলার দর

দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ঘোষিত ডলারের দরেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ডলার বিক্রির দর নির্ধারণ করেছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রি করছে প্রায় ১২২ টাকা ৯৫ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংক বিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ডলার বিক্রির দর নির্ধারণ করেছে প্রায় ১২২ টাকা ৯৯ পয়সা। আর মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে প্রায় ১২২ টাকা ৯০ পয়সায়।

ব্যাংকারদের মতে, সব ব্যাংকের কাছে সমানভাবে ডলার আসছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্যের কারণে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দর নির্ধারণ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বাজারে সরাসরি ডলার সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি সীমিত রাখার কারণে বাজারে ডলারের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একইসঙ্গে বাজার থেকে ডলার কেনাও আপাতত বন্ধ রেখেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চের শুরু পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে পাঁচ বিলিয়নের বেশি ডলার কিনেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৯ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

বেসরকারি ৪ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

জ্বালানি বাজারে নতুন ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতোমধ্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি চাহিদা পরিকল্পনা, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সতর্ক নীতি গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে। এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে।

একই সময়ে রফতানি আয় কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি বাড়া এবং রফতানি কমার কারণেই এই চাপ তৈরি হয়েছে।

রেমিট্যান্সে স্বস্তি

তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে দেশে প্রায় ১৯ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

এই প্রবাহের কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৮ বিলিয়ন ডলার | The Daily Star

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখা এবং রিজার্ভ ধরে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে, বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে এবং টাকার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।