০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক

মার্কিন ভিসা জালিয়াতি: সাজানো ডাকাতির নাটকে গ্রেপ্তার ১০ ভারতীয়, ফাঁস বড় চক্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা সুবিধা পেতে সাজানো ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দোকানে ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে কর্মচারীদের ‘সহিংস অপরাধের শিকার’ হিসেবে দেখিয়ে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

কীভাবে সাজানো হয়েছিল ডাকাতির নাটক

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে এই পরিকল্পিত চক্র সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন দোকানে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রধারী ডাকাতির অভিনয় করা হতো। একজন ব্যক্তি ডাকাত সেজে দোকানে ঢুকতেন, কর্মচারীদের ভয় দেখাতেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন। পুরো ঘটনাটি দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা হতো যাতে সেটিকে বাস্তব অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ঘটনার পর দোকানের কর্মচারীরা কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুলিশে খবর দিতেন। তদন্তকারীদের মতে, এই বিলম্বই সন্দেহের সূত্র তৈরি করে এবং পরে পুরো জালিয়াতি চক্রটি ধরা পড়ে।

ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিল পরিকল্পনা

এই সাজানো ডাকাতির মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়া। ওই ভিসাটি সাধারণত এমন ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয় যারা সহিংস অপরাধের শিকার হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্তে সহায়তা করেছে। কিন্তু অভিযুক্তরা এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়া অপরাধের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে জানা গেছে, যারা নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখাতে চাইতেন তারা সংগঠকের কাছে অর্থ দিতেন। আবার দোকানের মালিকদেরও অর্থ দিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এই নাটকীয় ডাকাতির জন্য ব্যবহার করতে রাজি করানো হতো।

একাধিক অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে হাজিরও হয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তীতে একই আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ডাকাত সেজে অভিনয় করা ব্যক্তি, মূল সংগঠক এবং পালানোর গাড়ির চালককে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নতুন করে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হয় এই সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা সমন্বয় করেছে অথবা নিজেরা কিংবা পরিবারের সদস্যদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখানোর জন্য এতে অংশ নিয়েছে।

দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা

মামলায় প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি কারাভোগের পর কয়েক বছর নজরদারিতে থাকতে হতে পারে এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডও হতে পারে।

তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের সবাইকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র

মার্কিন ভিসা জালিয়াতি: সাজানো ডাকাতির নাটকে গ্রেপ্তার ১০ ভারতীয়, ফাঁস বড় চক্র

০৪:০৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা সুবিধা পেতে সাজানো ডাকাতির নাটক সাজানোর অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দোকানে ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে কর্মচারীদের ‘সহিংস অপরাধের শিকার’ হিসেবে দেখিয়ে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

কীভাবে সাজানো হয়েছিল ডাকাতির নাটক

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে এই পরিকল্পিত চক্র সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন দোকানে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্রধারী ডাকাতির অভিনয় করা হতো। একজন ব্যক্তি ডাকাত সেজে দোকানে ঢুকতেন, কর্মচারীদের ভয় দেখাতেন এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতেন। পুরো ঘটনাটি দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা হতো যাতে সেটিকে বাস্তব অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ঘটনার পর দোকানের কর্মচারীরা কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুলিশে খবর দিতেন। তদন্তকারীদের মতে, এই বিলম্বই সন্দেহের সূত্র তৈরি করে এবং পরে পুরো জালিয়াতি চক্রটি ধরা পড়ে।

ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিল পরিকল্পনা

এই সাজানো ডাকাতির মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিশেষ অভিবাসন সুবিধা পাওয়া। ওই ভিসাটি সাধারণত এমন ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হয় যারা সহিংস অপরাধের শিকার হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্তে সহায়তা করেছে। কিন্তু অভিযুক্তরা এই সুবিধা পাওয়ার জন্য ভুয়া অপরাধের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে জানা গেছে, যারা নিজেদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখাতে চাইতেন তারা সংগঠকের কাছে অর্থ দিতেন। আবার দোকানের মালিকদেরও অর্থ দিয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এই নাটকীয় ডাকাতির জন্য ব্যবহার করতে রাজি করানো হতো।

একাধিক অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে হাজিরও হয়েছেন। অন্যদের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাদের পরবর্তীতে একই আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ডাকাত সেজে অভিনয় করা ব্যক্তি, মূল সংগঠক এবং পালানোর গাড়ির চালককে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নতুন করে অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হয় এই সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা সমন্বয় করেছে অথবা নিজেরা কিংবা পরিবারের সদস্যদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখানোর জন্য এতে অংশ নিয়েছে।

দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা

মামলায় প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি কারাভোগের পর কয়েক বছর নজরদারিতে থাকতে হতে পারে এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডও হতে পারে।

তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের সবাইকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।