মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পুত্র মুজতবা খামেনেই আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাদের ভূখণ্ডে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তার দাবি, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার নামে যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।
মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিকে ‘মিথ্যা’ বললেন খামেনেই
মুজতবা খামেনেই সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার দাবি করে, বাস্তবে তা পুরোপুরি ভ্রান্ত।
তিনি বলেন, এসব ঘাঁটি বন্ধ হলে ওই দেশগুলোর জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে অপমানজনক পরিস্থিতি থেকেও তারা মুক্তি পাবে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতে পারবে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা
খামেনেই বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্য ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে মোট পনেরোটি দেশের সীমান্ত রয়েছে এবং সবসময়ই তাদের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে তেহরান।
তার অভিযোগ, বহু বছর ধরে ‘শত্রুপক্ষ’ কিছু আঞ্চলিক দেশে সামরিক ও আর্থিক ঘাঁটি স্থাপন করে এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার সতর্কবার্তা
খামেনেই জানান, ইরান আগে থেকেই সতর্ক করেছিল যে তারা সরাসরি ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে ইরান এই পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে বাধ্য হবে।
তার মতে, ইরান শত্রু পক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। যদি তারা তা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদের সম্পদ থেকেই সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ঘাঁটি আকাশ ও নৌ অভিযান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনাটি কাতারে অবস্থিত, যেখানে প্রায় দশ হাজার সেনা অবস্থান করছে। বাহরাইনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। কুয়েতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং বড় আকারের সেনা উপস্থিতি। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন বিমানঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর বিমান হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ায় অন্তত সতেরোটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত আটজন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় একশ চল্লিশ জন আহত হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















