ভারতের কৃষকদের জন্য আইনি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি এখনও কেন বাস্তবায়ন হয়নি—এই প্রশ্ন তুলে সংসদে কেন্দ্র সরকারকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার সরাসরি জবাব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে এবং কৃষকদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
সংসদে সরাসরি প্রশ্ন রাহুলের
রাহুল গান্ধী জানান, তিনি সংসদে সরাসরি জানতে চেয়েছেন কেন ২০২১ সালে কৃষকদের জন্য সি২ ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ যোগ করে আইনি এমএসপি কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। তার দাবি, সরকার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে পুরোনো এমএসপি নীতির কথাই পুনরাবৃত্তি করেছে।
তার অভিযোগ, আলোচনার সময় সরকার স্বীকার করেছে যে রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত এমএসপি বোনাস বন্ধ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’-এর কথা বলে ব্যাখ্যা করা হলেও এর পেছনে স্পষ্ট যুক্তি দেওয়া হয়নি।
বাণিজ্য আলোচনায় নতুন উদ্বেগ
রাহুল গান্ধী ভারতের চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আলোচনায় ‘অ-বাণিজ্য বাধা’ কমানোর যে কথা বলা হচ্ছে, তা কি দেশের এমএসপি ব্যবস্থা ও সরকারি খাদ্য সংগ্রহ নীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে?

তার ভাষ্য, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর সরকার দেয়নি। ফলে কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
কৃষকদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ
রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষকদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চায় না। তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থে সরকার দেশের কৃষি খাতকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের অধিকার এবং আইনি এমএসপি নিশ্চিত করার দাবিতে তার দল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিনের কৃষক আন্দোলনের দাবি
সি২ ব্যয়ের ওপর ৫০ শতাংশ লাভ যোগ করে এমএসপি নির্ধারণের প্রস্তাব বহুদিন ধরেই বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দাবি। কৃষি বিশেষজ্ঞ এম এস স্বামীনাথনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কৃষক কমিশন এই সূত্রের সুপারিশ করেছিল। এতে জমির ভাড়া ও মূলধনের সুদের মতো পূর্ণ উৎপাদন ব্যয়কে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
২০২০ সালে প্রণীত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দীর্ঘ আন্দোলনের সময় এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে কেন্দ্র সরকার সেই আইনগুলো প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই কৃষক সংগঠনগুলো আইনি এমএসপি নিশ্চিত করার দাবিতে চাপ অব্যাহত রেখেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















