ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে পাম তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যান্য ভোজ্যতেলের তুলনায় পাম তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় দেশটির পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই তেলের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এর ফলে বাজারে সূর্যমুখী তেলের আমদানি কমে যাওয়ার স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে আমদানিতে বড় উল্লম্ফন
বাণিজ্য খাতের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ভারতে পাম তেলের আমদানি প্রায় ১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টনে। জানুয়ারিতে এই পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৪ মেট্রিক টন। গত বছরের আগস্টের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ পাম তেল আমদানি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাম তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। ভারতের মতো বড় ক্রেতা দেশ বেশি করে পাম তেল কিনতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

সূর্যমুখী তেলের আমদানিতে বড় পতন
একই সময়ে সূর্যমুখী তেলের আমদানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারিতে এই তেলের আমদানি প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩০৮ টনে।
অন্যদিকে সয়াবিন তেলের আমদানিতে কিছুটা বৃদ্ধি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সয়াবিন তেলের আমদানি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬ টনে। তবে সূর্যমুখী তেলের বড় পতনের কারণে মোট ভোজ্যতেল আমদানি সামান্য কমে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে মোট ভোজ্যতেল আমদানি প্রায় ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার টনে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারতের বাড়তি পাম তেল ও সয়াবিন তেল আমদানি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মজুত কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত সাধারণত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল আমদানি করে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আসে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় ক্রেতারা দ্রুত সরবরাহ পাওয়া যায় এমন চালানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে কেনা সয়াবিন বা সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
তবে মার্চ মাসে পাম তেলের আমদানি কিছুটা কমে প্রায় ৮ লাখ টনের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে সয়াবিন তেলের সঙ্গে পাম তেলের দামের ব্যবধান আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















