০৫:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

দিল্লিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে ২০ শতাংশ সীমা, অগ্রাধিকার পাচ্ছে হাসপাতাল

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দিল্লি সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে কঠোর সীমা নির্ধারণ করেছে। শনিবার জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে শহরের দৈনিক গড় ব্যবহারের মাত্র ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হবে। তবে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে এবং বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ১,৮০০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হবে, যা দিল্লির গড় দৈনিক বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৯,০০০ সিলিন্ডারের মাত্র ২০ শতাংশ।

দিল্লি সরকারের খাদ্য, সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার ঝা স্বাক্ষরিত আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

অগ্রাধিকারভিত্তিক আটটি খাত

সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারীদের আটটি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে ভাগ করেছে। এর মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার পেয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে ও বিমানবন্দর। সাধারণত এসব খাতে প্রতিদিন ২০০টির বেশি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয় না, তবে তাদের প্রয়োজনীয়তার কারণে তাদের চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করা হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সরকারি দপ্তর ও সরকারি সংস্থার পরিচালিত ক্যান্টিন। তৃতীয় অগ্রাধিকার খাতে রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোকে। চতুর্থ অগ্রাধিকার খাতে পড়েছে হোটেল, আতিথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং গেস্ট হাউস।

বুকিং অনুযায়ী সরবরাহ

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ভোক্তাদের বুকিংয়ের ওপর নির্ভর করে করা হবে। বুকিংয়ের ক্রমানুসারে সিলিন্ডার দেওয়া হবে।

তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব অনুযায়ী দৈনিক কোটা ভাগ করা হবে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল পাবে ৫৮ শতাংশ, ভারত পেট্রোলিয়াম ২৭ শতাংশ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ১৫ শতাংশ।

Delhi caps commercial LPG supply at 20% of daily usage, hospitals get top  priority | Delhi News - The Indian Express

সিলিন্ডারের ধরন ও সরবরাহ

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৯ কেজি ক্ষমতার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে। তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রয়োজন থাকলে অন্য ক্ষমতার সিলিন্ডার দেওয়া যেতে পারে।

পাঁচ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে না, কারণ এগুলো সাধারণ বাণিজ্যিক বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় না এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

মজুত রোধে কঠোর ব্যবস্থা

মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে প্রতিটি ভোক্তার দৈনিক সরবরাহ নির্ধারণ করা হবে গত তিন মাসের গড় ব্যবহারের ভিত্তিতে। এই তথ্য সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।

সরবরাহ নির্ধারিত অগ্রাধিকার খাতের সীমা অনুযায়ী দেওয়া হবে। কোম্পানিগুলো অনলাইনে বুকিং গ্রহণ করবে এবং প্রতিটি বুকিংয়ের তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিক তালিকা সংরক্ষণ করবে।

যদি বুকিংয়ের পরপরই সরবরাহ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সাধারণত আগে বুকিং করা গ্রাহকদের আগে সিলিন্ডার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে বকেয়া চাহিদা থাকলে পরদিন তা পূরণের চেষ্টা করা হবে।

বিকল্প ব্যবস্থার পরামর্শ

সরকার সতর্ক করেছে যে, নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িকভাবে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন চুলা, বাষ্পভিত্তিক রান্না ব্যবস্থা এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহার করা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে এলপিজি ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যাতে জরুরি খাতগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

দিল্লিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে ২০ শতাংশ সীমা, অগ্রাধিকার পাচ্ছে হাসপাতাল

০৭:১২:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দিল্লি সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে কঠোর সীমা নির্ধারণ করেছে। শনিবার জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে শহরের দৈনিক গড় ব্যবহারের মাত্র ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ করা হবে। তবে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে এবং বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের প্রয়োজনের ১০০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ১,৮০০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হবে, যা দিল্লির গড় দৈনিক বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারের প্রায় ৯,০০০ সিলিন্ডারের মাত্র ২০ শতাংশ।

দিল্লি সরকারের খাদ্য, সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার ঝা স্বাক্ষরিত আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

অগ্রাধিকারভিত্তিক আটটি খাত

সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারীদের আটটি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে ভাগ করেছে। এর মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার পেয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে ও বিমানবন্দর। সাধারণত এসব খাতে প্রতিদিন ২০০টির বেশি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয় না, তবে তাদের প্রয়োজনীয়তার কারণে তাদের চাহিদার পুরোটা সরবরাহ করা হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সরকারি দপ্তর ও সরকারি সংস্থার পরিচালিত ক্যান্টিন। তৃতীয় অগ্রাধিকার খাতে রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোকে। চতুর্থ অগ্রাধিকার খাতে পড়েছে হোটেল, আতিথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং গেস্ট হাউস।

বুকিং অনুযায়ী সরবরাহ

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ভোক্তাদের বুকিংয়ের ওপর নির্ভর করে করা হবে। বুকিংয়ের ক্রমানুসারে সিলিন্ডার দেওয়া হবে।

তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব অনুযায়ী দৈনিক কোটা ভাগ করা হবে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল পাবে ৫৮ শতাংশ, ভারত পেট্রোলিয়াম ২৭ শতাংশ এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ১৫ শতাংশ।

Delhi caps commercial LPG supply at 20% of daily usage, hospitals get top  priority | Delhi News - The Indian Express

সিলিন্ডারের ধরন ও সরবরাহ

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৯ কেজি ক্ষমতার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে। তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রয়োজন থাকলে অন্য ক্ষমতার সিলিন্ডার দেওয়া যেতে পারে।

পাঁচ কেজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে না, কারণ এগুলো সাধারণ বাণিজ্যিক বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় না এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

মজুত রোধে কঠোর ব্যবস্থা

মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে প্রতিটি ভোক্তার দৈনিক সরবরাহ নির্ধারণ করা হবে গত তিন মাসের গড় ব্যবহারের ভিত্তিতে। এই তথ্য সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।

সরবরাহ নির্ধারিত অগ্রাধিকার খাতের সীমা অনুযায়ী দেওয়া হবে। কোম্পানিগুলো অনলাইনে বুকিং গ্রহণ করবে এবং প্রতিটি বুকিংয়ের তারিখ অনুযায়ী ধারাবাহিক তালিকা সংরক্ষণ করবে।

যদি বুকিংয়ের পরপরই সরবরাহ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সাধারণত আগে বুকিং করা গ্রাহকদের আগে সিলিন্ডার দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে বকেয়া চাহিদা থাকলে পরদিন তা পূরণের চেষ্টা করা হবে।

বিকল্প ব্যবস্থার পরামর্শ

সরকার সতর্ক করেছে যে, নিয়ম ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িকভাবে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন চুলা, বাষ্পভিত্তিক রান্না ব্যবস্থা এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহার করা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে এলপিজি ব্যবস্থাপনা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যাতে জরুরি খাতগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখা যায়।