০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক

এলপিজি সিলিন্ডার কোথায় গেল? রাস্তায় নেমে ক্ষোভে ফুঁসছে নয়ডার বাসিন্দারা

নয়ডায় গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। বিলম্বিত ডেলিভারি এবং মিথ্যা সরবরাহ নিশ্চিতকরণের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার দুপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দারা সেক্টর–৪ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।

এই বিক্ষোভ সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে শুরু হয় এবং দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই নয়ডার বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমজীবী বা নীলকলার কর্মী। তাদের অনেকেই বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লি থেকে এসে এখানে কাজ করেন।

বুকিংয়ের পরও সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা সরকারি নম্বরে এক সপ্তাহেরও বেশি আগে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করেছিলেন এবং বুকিংয়ের নিশ্চিত বার্তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সিলিন্ডার তাদের বাড়িতে পৌঁছায়নি। বরং পরে তাদের ফোনে এসএমএস আসে যে সিলিন্ডার ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হয়েছে।

সেক্টর–২ এর বাসিন্দা অমরিন্দর বলেন, বৃহস্পতিবার একটি বার্তা পাই যেখানে বলা হয়েছে আমি ১০ মার্চ গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছি এবং এখন আবার বুক করতে হলে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমি তো কোনো সিলিন্ডারই পাইনি।

সেক্টর–১২ এর দর্জি অশোক শর্মা বলেন, চার দিন আগে আমার সিলিন্ডার আসার কথা ছিল। চার দিন চার রাত ধরে আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোনো বাড়তি কিছু চাইছি না। আমরা শুধু সেই জিনিসটাই চাইছি যার জন্য ইতিমধ্যেই টাকা দিয়েছি। আমি যদি না নিয়ে থাকি, তাহলে আমার গ্যাস সিলিন্ডার কে নিল?

প্রশাসনের নীরবতা, গ্যাস এজেন্সির অস্বীকার

এই ঘটনার বিষয়ে নয়ডা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় গ্যাস এজেন্সির মালিকরা বাসিন্দাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সেক্টর–৪১ এর মঙ্গলম গ্যাস এজেন্সির ব্যবস্থাপক সঞ্জীব শর্মা বলেন, যারা গ্যাস সিলিন্ডার বুক করেছেন তারা অবশ্যই তা পাবেন। কোনো ঘাটতি নেই। মানুষকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার নেই

কিছু বাসিন্দা জানান, তারা ভোর থেকেই বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছেন। রানি কুমারি বুকিং স্লিপ দেখিয়ে বলেন, আমি ভোর সাড়ে তিনটায় বিতরণ কেন্দ্রে এসে দাঁড়াই। গ্যাসবাহী গাড়ি সকাল সাড়ে সাতটায় আসার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর সাড়ে বারোটাতেও তার কোনো দেখা নেই।

গ্যাস না পেয়ে বাড়ছে খরচ

বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হোটেলে খাচ্ছেন, যার ফলে তাদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে।

প্রতিবাদকারী আদিত্য কুমার বলেন, এই সংকটের কারণেই আমরা রাস্তা অবরোধ করেছি। এখন এক কেজি এলপিজির জন্য আমাদের ৩৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

আরেক বিক্ষোভকারী সুমিত যাদব বলেন, রান্নার গ্যাসের এই সংকট শ্রমজীবী পরিবারগুলোর উপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রতিদিন হোটেলে খাচ্ছি। প্রতিদিন কাজ ছেড়ে এখানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। হোটেলগুলোও খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র

এলপিজি সিলিন্ডার কোথায় গেল? রাস্তায় নেমে ক্ষোভে ফুঁসছে নয়ডার বাসিন্দারা

০৭:১৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

নয়ডায় গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। বিলম্বিত ডেলিভারি এবং মিথ্যা সরবরাহ নিশ্চিতকরণের অভিযোগ ঘিরে শুক্রবার দুপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সেক্টরের বাসিন্দারা সেক্টর–৪ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।

এই বিক্ষোভ সকাল প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে শুরু হয় এবং দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষই নয়ডার বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমজীবী বা নীলকলার কর্মী। তাদের অনেকেই বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লি থেকে এসে এখানে কাজ করেন।

বুকিংয়ের পরও সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা সরকারি নম্বরে এক সপ্তাহেরও বেশি আগে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করেছিলেন এবং বুকিংয়ের নিশ্চিত বার্তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সিলিন্ডার তাদের বাড়িতে পৌঁছায়নি। বরং পরে তাদের ফোনে এসএমএস আসে যে সিলিন্ডার ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হয়েছে।

সেক্টর–২ এর বাসিন্দা অমরিন্দর বলেন, বৃহস্পতিবার একটি বার্তা পাই যেখানে বলা হয়েছে আমি ১০ মার্চ গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছি এবং এখন আবার বুক করতে হলে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমি তো কোনো সিলিন্ডারই পাইনি।

সেক্টর–১২ এর দর্জি অশোক শর্মা বলেন, চার দিন আগে আমার সিলিন্ডার আসার কথা ছিল। চার দিন চার রাত ধরে আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোনো বাড়তি কিছু চাইছি না। আমরা শুধু সেই জিনিসটাই চাইছি যার জন্য ইতিমধ্যেই টাকা দিয়েছি। আমি যদি না নিয়ে থাকি, তাহলে আমার গ্যাস সিলিন্ডার কে নিল?

প্রশাসনের নীরবতা, গ্যাস এজেন্সির অস্বীকার

এই ঘটনার বিষয়ে নয়ডা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় গ্যাস এজেন্সির মালিকরা বাসিন্দাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সেক্টর–৪১ এর মঙ্গলম গ্যাস এজেন্সির ব্যবস্থাপক সঞ্জীব শর্মা বলেন, যারা গ্যাস সিলিন্ডার বুক করেছেন তারা অবশ্যই তা পাবেন। কোনো ঘাটতি নেই। মানুষকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার নেই

কিছু বাসিন্দা জানান, তারা ভোর থেকেই বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অপেক্ষা করছেন। রানি কুমারি বুকিং স্লিপ দেখিয়ে বলেন, আমি ভোর সাড়ে তিনটায় বিতরণ কেন্দ্রে এসে দাঁড়াই। গ্যাসবাহী গাড়ি সকাল সাড়ে সাতটায় আসার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর সাড়ে বারোটাতেও তার কোনো দেখা নেই।

গ্যাস না পেয়ে বাড়ছে খরচ

বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হোটেলে খাচ্ছেন, যার ফলে তাদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে।

প্রতিবাদকারী আদিত্য কুমার বলেন, এই সংকটের কারণেই আমরা রাস্তা অবরোধ করেছি। এখন এক কেজি এলপিজির জন্য আমাদের ৩৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

আরেক বিক্ষোভকারী সুমিত যাদব বলেন, রান্নার গ্যাসের এই সংকট শ্রমজীবী পরিবারগুলোর উপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রতিদিন হোটেলে খাচ্ছি। প্রতিদিন কাজ ছেড়ে এখানে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। হোটেলগুলোও খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছে না।