০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র হলিউড ছাড়ছে অস্কার, ২০২৯ থেকে নতুন ঠিকানা ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক

এলপিজি সংকটে পাঞ্জাবে আতঙ্ক, দীর্ঘ লাইনে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি

পাঞ্জাবজুড়ে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার ঘিরে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় শনিবার বিভিন্ন জেলায় গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বহু মানুষ সিলিন্ডার সংগ্রহ বা বুকিং করতে ভিড় জমালে কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটেছে।

গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা

পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা সিলিন্ডার রিফিল করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেককে আবার সিলিন্ডার নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়। এতে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

লুধিয়ানার গিয়াসপুরা এলাকায় কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর কিছু গ্রাহক গ্যাস এজেন্সির কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।

সাংরুর জেলার ভাবানীগড় এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভোর পাঁচটা থেকেই মানুষ গ্যাস এজেন্সির সামনে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন, ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হয়।

শাটার নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বাথিন্ডা জেলার ঝুম্বা গ্রামের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, সঙ্গত ব্লকের নিকটবর্তী একটি গ্যাস এজেন্সি ভিড় বাড়তে দেখে দীর্ঘ সময় শাটার বন্ধ করে রাখে। এতে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

হোশিয়ারপুর জেলার তালওয়ারা এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে সতনাম গ্যাস এজেন্সি খোলার পরই গ্রাহকেরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন।

তালওয়ারার দোসরকা মহল্লার বাসিন্দা ও সরকারি শিক্ষক জস্বীর সিং বলেন, সরকার এলপিজি সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি জানান, সকাল নয়টার দিকে গ্যাস অফিসে পৌঁছানোর পর একটি কাজ শেষ করতে সাধারণত কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু সেদিন ভিড়ের কারণে সিলিন্ডার পেতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তার মতে, আগে যেমন বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হতো, সেই ব্যবস্থা চালু থাকলে এ ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি অনেকটাই এড়ানো যেত।

বুকিং সমস্যায় বাড়ছে উদ্বেগ

সাংরুর জেলার ভুল্লারহেরি গ্রামের অবতার সিং তারি জানান, যথাযথ বুকিং ছাড়া এখন সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, যা মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, তার এক বন্ধু গত বছরের জুলাই মাসে সিলিন্ডার বুক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সার্ভার দীর্ঘদিন কাজ না করায় বুকিং করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে শনিবার সার্ভার চালু হলে তিনি বুকিং করতে সক্ষম হন।

সংকটের মাঝেও পাঞ্জাবের মানবিকতা

তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পাঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেছে ভাবানীগড়ে। সেখানে স্থানীয় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের জন্য ছোট পরিসরে চা ও সমোসার লঙ্গর বা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

সাংরুর জেলার বাসিন্দা ভূপিন্দর সিং বলেন, এমন উদ্যোগ পাঞ্জাবেই সম্ভব। তিনি জানান, এলপিজি নিয়েই যখন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তখনও মানুষ লাইনে দাঁড়ানো অন্যদের জন্য চা ও সমোসা তৈরি করে পরিবেশন করেছেন।

আতঙ্কে বাড়ছে চাহিদা

ভূপিন্দর সিংয়ের মতে, গ্যাস এজেন্সিগুলিতে হঠাৎ ভিড় বাড়ার অন্যতম কারণ আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত সিলিন্ডার কেনা।

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক পরিবার এখন ইনডাকশন চুলা, ঐতিহ্যবাহী চুলা বা গোবরের উপলা ব্যবহার করে রান্না করে। পাঞ্জাবে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাওয়া যায় বলে অনেক বাড়িতে এলপিজির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। তবে গুজব বা উদ্বেগের কারণে মানুষ হঠাৎ করে সিলিন্ডার সংগ্রহে ভিড় করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যের ঝুঁকির নতুন মানচিত্র

এলপিজি সংকটে পাঞ্জাবে আতঙ্ক, দীর্ঘ লাইনে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি

০৭:২৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পাঞ্জাবজুড়ে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার ঘিরে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় শনিবার বিভিন্ন জেলায় গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বহু মানুষ সিলিন্ডার সংগ্রহ বা বুকিং করতে ভিড় জমালে কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটেছে।

গ্যাস এজেন্সির সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা

পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা সিলিন্ডার রিফিল করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনেককে আবার সিলিন্ডার নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই বা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়। এতে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

লুধিয়ানার গিয়াসপুরা এলাকায় কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর কিছু গ্রাহক গ্যাস এজেন্সির কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।

সাংরুর জেলার ভাবানীগড় এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভোর পাঁচটা থেকেই মানুষ গ্যাস এজেন্সির সামনে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন, ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হয়।

শাটার নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

বাথিন্ডা জেলার ঝুম্বা গ্রামের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, সঙ্গত ব্লকের নিকটবর্তী একটি গ্যাস এজেন্সি ভিড় বাড়তে দেখে দীর্ঘ সময় শাটার বন্ধ করে রাখে। এতে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

হোশিয়ারপুর জেলার তালওয়ারা এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে সতনাম গ্যাস এজেন্সি খোলার পরই গ্রাহকেরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন।

তালওয়ারার দোসরকা মহল্লার বাসিন্দা ও সরকারি শিক্ষক জস্বীর সিং বলেন, সরকার এলপিজি সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি জানান, সকাল নয়টার দিকে গ্যাস অফিসে পৌঁছানোর পর একটি কাজ শেষ করতে সাধারণত কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু সেদিন ভিড়ের কারণে সিলিন্ডার পেতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

তার মতে, আগে যেমন বাড়ি বাড়ি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হতো, সেই ব্যবস্থা চালু থাকলে এ ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি অনেকটাই এড়ানো যেত।

বুকিং সমস্যায় বাড়ছে উদ্বেগ

সাংরুর জেলার ভুল্লারহেরি গ্রামের অবতার সিং তারি জানান, যথাযথ বুকিং ছাড়া এখন সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, যা মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, তার এক বন্ধু গত বছরের জুলাই মাসে সিলিন্ডার বুক করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সার্ভার দীর্ঘদিন কাজ না করায় বুকিং করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে শনিবার সার্ভার চালু হলে তিনি বুকিং করতে সক্ষম হন।

সংকটের মাঝেও পাঞ্জাবের মানবিকতা

তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও পাঞ্জাবের সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেছে ভাবানীগড়ে। সেখানে স্থানীয় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের জন্য ছোট পরিসরে চা ও সমোসার লঙ্গর বা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

সাংরুর জেলার বাসিন্দা ভূপিন্দর সিং বলেন, এমন উদ্যোগ পাঞ্জাবেই সম্ভব। তিনি জানান, এলপিজি নিয়েই যখন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তখনও মানুষ লাইনে দাঁড়ানো অন্যদের জন্য চা ও সমোসা তৈরি করে পরিবেশন করেছেন।

আতঙ্কে বাড়ছে চাহিদা

ভূপিন্দর সিংয়ের মতে, গ্যাস এজেন্সিগুলিতে হঠাৎ ভিড় বাড়ার অন্যতম কারণ আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত সিলিন্ডার কেনা।

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক পরিবার এখন ইনডাকশন চুলা, ঐতিহ্যবাহী চুলা বা গোবরের উপলা ব্যবহার করে রান্না করে। পাঞ্জাবে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাওয়া যায় বলে অনেক বাড়িতে এলপিজির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম। তবে গুজব বা উদ্বেগের কারণে মানুষ হঠাৎ করে সিলিন্ডার সংগ্রহে ভিড় করছে।