মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থবাজারে। সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে সতর্ক মনোভাব দেখা গেছে, আর তেলের দামও ওঠানামার মধ্যেই ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আপাতত সুদের হার নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একাধিক দেশ যৌথ উদ্যোগ নিতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকটি দেশ মিলে একটি জোট গঠন করে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে ওই প্রণালি দিয়ে চলাচল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে পশ্চিমা সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক বার্তা এসেছে। সহযোগী দেশগুলো যদি এই সংকটে যথাযথ ভূমিকা না নেয়, তাহলে জোটের ভবিষ্যতের জন্য তা নেতিবাচক হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তেলের দামে অস্থিরতা
সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ওঠানামা করছে। ব্রেন্ট তেলের দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৪ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। অন্যদিকে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমে প্রায় ৯৮ ডলারের আশপাশে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের দামে আরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সামনে কঠিন সমীকরণ
এই সপ্তাহে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডসহ অনেক দেশের নীতিনির্ধারকেরা বৈঠকে বসবেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি থাকায় বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার দিকেই ঝুঁকতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার সামান্য বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা
সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক কিছুটা কমেছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার সামান্য বেড়েছে। একই সময়ে জাপানের বাইরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিস্তৃত সূচক সামান্য নিচে নেমেছে।
চীনের বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা গেছে। যদিও খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদনের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে ভালো এসেছে, তবু আবাসন বাজারের দুর্বলতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছে।

মুদ্রাবাজার ও স্বর্ণের পরিস্থিতি
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়লে সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ে। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী ডলারকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সোমবার ডলারের মূল্য সামান্য কমেছে।
জাপানি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম উচ্চ অবস্থানে থাকলেও তা সামান্য নেমেছে। একই সময় ইউরোর মূল্য কয়েক মাসের নিম্নস্তরের কাছাকাছি রয়েছে।
অন্যদিকে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থির রয়েছে। সাধারণত সংকটের সময় স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও এবার বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও জ্বালানির বাজারের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক অর্থবাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















