প্যারিসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক আলোচনার শেষ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য বাণিজ্য সমঝোতা এবং কৃষিপণ্য ক্রয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে কৃষিপণ্য বাণিজ্য বৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির মতো বিষয়। এসব প্রস্তাব নিয়ে শিগগিরই বেইজিংয়ে সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা।
প্যারিস আলোচনায় সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল এবং চীনের উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল এমন কিছু প্রস্তাব তৈরি করা, যা পরবর্তী শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা যাবে।
এই আলোচনাকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাদের মতে, আলোচনায় তৈরি হওয়া প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করতে পারে।
![]()
কৃষিপণ্য আমদানিতে চীনের আগ্রহ
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কৃষিপণ্য বাণিজ্য। জানা গেছে, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে মুরগির মাংস, গরুর মাংস এবং সয়াবিন ছাড়া অন্যান্য ফসল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়া পূর্বের একটি বাণিজ্য সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী তিন বছর ধরে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মার্কিন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতিও বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোর প্রস্তাব
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সহজ করতে নতুন কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য বোর্ড এবং বিনিয়োগ বোর্ড গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হবে এমন খাত চিহ্নিত করা, যেখানে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব, তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বিনিয়োগ সংক্রান্ত বোর্ডটি মূলত নির্দিষ্ট বিনিয়োগ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে আলোচনা
আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিশেষ করে চীনে উৎপাদিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব খনিজ আধুনিক শিল্প, বিশেষ করে বিমান ইঞ্জিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্রের দাবি, এই খাতে কিছু জটিলতা কমানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শীর্ষ বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তার আভাস
এদিকে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সমাধানে চীনের সহযোগিতা না মিললে বৈঠকের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।
তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, চলতি বছরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হতে পারে এবং এসব আলোচনার ফলাফল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















