০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক বৃষ্টিতে ভেসে উঠল হারানো নাম্বার প্লেট, আমিরাতে আবারও ২০২৪ সালের স্মৃতি ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন সংঘর্ষে ফিলিপাইনকে সতর্ক করল চীন

দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ফিলিপাইনের একটি সরবরাহ জাহাজ দ্বিতীয় থমাস শোলের কাছে সৈন্যদের জন্য রসদ পৌঁছে দিতে গেলে চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজ তাদের পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনা জাহাজগুলো পানির কামান ব্যবহার করে এবং বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে বাধা সৃষ্টি করে। চীন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ঘটনা দক্ষিণ চীন সাগরের চলমান উত্তেজনার আরেকটি অধ্যায়। গত এক বছরে বিতর্কিত দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় থমাস শোল এই বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফিলিপাইন সেখানে একটি পুরোনো যুদ্ধজাহাজে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ১৯৯৯ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে জাহাজটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে তারা তাদের দাবি বজায় রাখতে পারে।
চীন পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর তাদের ঐতিহাসিক দাবি তুলে ধরে। এই দাবিকে আন্তর্জাতিক আদালত ২০১৬ সালে প্রত্যাখ্যান করলেও বেইজিং সেই রায় মানতে অস্বীকার করেছে।
এই ধরনের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বারবার এই ধরনের সংঘর্ষ বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

U.S. backs Philippine ally after China warns over vessel clash
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনীতি  
দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিবছর ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন হয়।
ফিলিপাইন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চীনও তাদের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। বড় আকারের জাহাজ এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, আবার একই সঙ্গে পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও চালিয়ে যেতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
যদিও উভয় পক্ষই সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চায় বলে জানিয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায় যে এই বিরোধ সহজে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন সংঘর্ষে ফিলিপাইনকে সতর্ক করল চীন

০৩:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তেজনা
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ফিলিপাইনের একটি সরবরাহ জাহাজ দ্বিতীয় থমাস শোলের কাছে সৈন্যদের জন্য রসদ পৌঁছে দিতে গেলে চীনা কোস্ট গার্ড জাহাজ তাদের পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনা জাহাজগুলো পানির কামান ব্যবহার করে এবং বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি এসে বাধা সৃষ্টি করে। চীন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ঘটনা দক্ষিণ চীন সাগরের চলমান উত্তেজনার আরেকটি অধ্যায়। গত এক বছরে বিতর্কিত দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় থমাস শোল এই বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফিলিপাইন সেখানে একটি পুরোনো যুদ্ধজাহাজে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ১৯৯৯ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে জাহাজটি স্থাপন করা হয়েছিল যাতে তারা তাদের দাবি বজায় রাখতে পারে।
চীন পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর তাদের ঐতিহাসিক দাবি তুলে ধরে। এই দাবিকে আন্তর্জাতিক আদালত ২০১৬ সালে প্রত্যাখ্যান করলেও বেইজিং সেই রায় মানতে অস্বীকার করেছে।
এই ধরনের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বারবার এই ধরনের সংঘর্ষ বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

U.S. backs Philippine ally after China warns over vessel clash
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কূটনীতি  
দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিবছর ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন হয়।
ফিলিপাইন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চীনও তাদের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। বড় আকারের জাহাজ এবং নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, আবার একই সঙ্গে পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও চালিয়ে যেতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
যদিও উভয় পক্ষই সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চায় বলে জানিয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখায় যে এই বিরোধ সহজে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।