ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক ব্রন্টে অঞ্চল আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি নতুন চলচ্চিত্রে এমিলি ব্রন্টের কালজয়ী গল্পের পুনরাভিনয় দর্শকদের মনে সৃষ্টি করেছে তীব্র কৌতূহল। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই অসংখ্য ভ্রমণপ্রেমী সেই রহস্যময় মুরভূমির দিকে যাত্রার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে ব্রন্টে পরিবারের সাহিত্যিক কল্পনা একসময় প্রাণ পেয়েছিল।
পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি মুরভূমি বহু বছর ধরেই সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণের স্থান। নতুন চলচ্চিত্রের প্রভাবে সেই আগ্রহ যেন আবার তীব্র হয়েছে। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, সাহিত্যিক ইতিহাস এবং পুরোনো ইংরেজ গ্রামীণ পরিবেশ মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন আবার পর্যটকদের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য হয়ে উঠছে।
হাওয়ার্থ গ্রাম: ব্রন্টে পরিবারের স্মৃতির ঠিকানা

ব্রন্টে অঞ্চলে ভ্রমণের প্রধান সূচনা হয় ছোট্ট কিন্তু ঐতিহাসিক হাওয়ার্থ গ্রাম থেকে। পাথরের তৈরি ঘরবাড়ি, ঢালু পাথরের রাস্তা এবং শতবর্ষের পুরোনো পরিবেশ এই গ্রামকে আলাদা স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে। এখানেই বসবাস করতেন ব্রন্টে পরিবারের তিন বোন ও তাদের ভাই।
গ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান তাদের পারিবারিক বাসভবন, যা বর্তমানে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানেই তারা রচনা করেছিলেন বহু বিখ্যাত কবিতা ও উপন্যাস। এই বাড়িটি এখন সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কেন্দ্র, যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন ব্রন্টে পরিবারের জীবন ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে কাছ থেকে অনুভব করতে।
টপ উইদেন্স: রহস্যময় ধ্বংসাবশেষের আকর্ষণ
যারা ব্রন্টে পরিবারের বিখ্যাত উপন্যাসের প্রকৃত আবহ অনুভব করতে চান, তারা হাওয়ার্থ থেকে কিছুটা দূরের টপ উইদেন্সে যান। পাহাড়ি মুরভূমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই ধ্বংসপ্রাপ্ত খামারবাড়িকে অনেকেই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বাড়ির অনুপ্রেরণা হিসেবে মনে করেন।
ইতিহাস বলছে, উনিশ শতকের শেষ দিকে এক প্রবল বজ্রঝড়ে এই বাড়িটির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। আজ সেই ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় কুয়াশা, বাতাস আর বিস্তীর্ণ নির্জনতা। এই পরিবেশ যেন পাঠকদের মনে উপন্যাসের রহস্যময় আবহকে আবারও জীবন্ত করে তোলে।

প্রকৃতি ও বিশ্রামের মিলিত অভিজ্ঞতা
বিস্তীর্ণ মুরভূমি, হিদার ফুলে ঢাকা মাঠ এবং বাতাসভরা পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের প্রধান আকর্ষণ। দীর্ঘ হাঁটার পর পর্যটকদের জন্য রয়েছে আরামদায়ক থাকার নানা ব্যবস্থা। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ আবাস ও আধুনিক অতিথিশালাগুলোতে পুরোনো ইংরেজ ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক স্বাচ্ছন্দ্যের এক অনন্য মিশ্রণ দেখা যায়।
প্রকৃতির নীরব পরিবেশে বিশ্রাম, বনভূমির নির্জনতা এবং আরামদায়ক বিশ্রামব্যবস্থা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। অনেক পর্যটকের মতে, মুরভূমির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর প্রকৃতির মাঝেই শান্তভাবে বিশ্রাম নেওয়ার অভিজ্ঞতাই এই যাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
চলচ্চিত্রের প্রভাবে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ
সাহিত্য থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তর অনেক সময় পুরোনো গল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়। এই নতুন চলচ্চিত্রও সেই ভূমিকা পালন করছে। তরুণ দর্শকদের অনেকেই এখন প্রথমবারের মতো ব্রন্টে পরিবারের সাহিত্য ও তাদের জীবনের গল্প সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
ফলে একটি চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আবারও জীবন্ত করে তুলেছে একটি ঐতিহাসিক সাহিত্যিক ঐতিহ্য। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে ব্রন্টে অঞ্চলে ভ্রমণের আগ্রহ এবং নতুন করে প্রাণ পাচ্ছে ইংল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক মুরভূমি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















