ঝিনাইদহের ডিজেল বাজারে অস্থিরতা এখন চরমে পৌঁছেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে ডিজেল বিক্রির অভিযোগে পুরো বাজার কার্যত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা, যারা ইতোমধ্যেই উৎপাদন ব্যয়ের চাপে দিশেহারা।
কৃত্রিম সংকটে বাড়ছে দাম
স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত ১০০ টাকার পরিবর্তে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। অভিযোগ উঠেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই একটি চক্র ডিজেল মজুদ করে বেশি দামে বাজারে ছাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যয়ে।

চাষাবাদে চাপ, কৃষকের হতাশা
মাঠপর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও বীজের দাম আগেই বেড়েছে। তার ওপর ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চাষাবাদকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেকেই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিজেল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত খোলা বাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ফলে কৃষকদের লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে, এমনকি অনেকে ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন।
সরবরাহ ব্যবস্থায় অসঙ্গতি
অভিযোগ রয়েছে, ডিপো থেকে পাম্পে পৌঁছানোর আগেই কিছু অসাধু চক্র ডিজেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। এরপর তা স্থানীয় বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং সাধারণ কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হবে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশ্বাস
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















