উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার আর্থিক বাজারে। তেলের দামে ওঠানামা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে সতর্ক মনোভাব দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ভবিষ্যতের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসকে জটিল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
যুদ্ধের মাঝেও আশার ইঙ্গিত
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উত্তর আটলান্টিক জোটের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তেলের বাজারে অস্থিরতা
উপসাগরীয় উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির রয়েছে। ব্রেন্ট তেলের দাম সামান্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমে প্রায় ৯৮ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়াম বাড়তে পারে এবং দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে অধিকাংশ ব্যাংক আপাতত সুদের হারে বড় পরিবর্তন না করার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পূর্বাভাসকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা এখন প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা
জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক সামান্য কমেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তৃত সূচকও সামান্য নিম্নমুখী হয়েছে।
চীনের বাজারেও মিশ্র সংকেত দেখা গেছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলেও আবাসন খাতে মূল্য হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের দিকে নজর
এদিকে প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এই সপ্তাহে একটি বড় প্রযুক্তি সম্মেলনে নতুন প্রজন্মের চিপ ও অবকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বিশ্ব শেয়ারবাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করতে পারে।

ডলার ও স্বর্ণের বাজার
বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার সময় সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ে। তবে সোমবার লেনদেনের শুরুতে ডলারের মূল্য সামান্য কমেছে। ইউরোর মূল্যও কয়েক মাসের নিম্নস্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অন্যদিকে স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবু এবার বাজারে সেই ধরনের বড় উল্লম্ফন দেখা যায়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের অগ্রগতি আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক বাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















