০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

হরমুজ উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে নৌমিশন জোরদারের ভাবনা ইউরোপের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তেলের সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নৌমিশন শক্তিশালী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে এখনই হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত সেই মিশনের কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপের নৌমিশনের পটভূমি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে “অ্যাসপিডিস” নামে একটি নৌমিশন গঠন করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল রক্ষা করা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া।

বর্তমানে এই মিশনের অধীনে সরাসরি ইতালি ও গ্রিসের দুটি যুদ্ধজাহাজ কাজ করছে। প্রয়োজনে ফ্রান্সের একটি এবং ইতালির আরেকটি জাহাজ সহায়তা দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালী কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালীতে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

ফলে এই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় নৌমিশনকে আরও সক্রিয় করা দরকার।

নৌমিশনে আরও জাহাজ যোগের আলোচনা

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আরও নৌসামরিক সক্ষমতা যুক্ত করার প্রস্তাব তুলেছেন।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে কীভাবে আরও দেশ এই মিশনে যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সহায়তা পাঠাতে পারে। এতে করে লোহিত সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

জার্মানির সংশয়

তবে এই মিশনের সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, বর্তমান কাজেই অ্যাসপিডিস মিশন পুরোপুরি কার্যকর নয়।

তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত এই মিশন বাড়ালে নিরাপত্তা আরও বাড়বে—এমন ধারণা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।

EU to discuss bolstering Middle East naval mission amid Iran war

ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রণালী রক্ষায় একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রিটেনও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এককভাবে এই উদ্যোগে অংশ নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ অ্যাসপিডিস মিশনের ম্যান্ডেট পরিবর্তন করতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন।

এ কারণে হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি নিরাপত্তা দায়িত্ব নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

হরমুজ উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে নৌমিশন জোরদারের ভাবনা ইউরোপের

০৪:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার পর সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তেলের সরবরাহে ঝুঁকি বাড়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নৌমিশন শক্তিশালী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে এখনই হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত সেই মিশনের কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপের নৌমিশনের পটভূমি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে “অ্যাসপিডিস” নামে একটি নৌমিশন গঠন করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল রক্ষা করা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া।

বর্তমানে এই মিশনের অধীনে সরাসরি ইতালি ও গ্রিসের দুটি যুদ্ধজাহাজ কাজ করছে। প্রয়োজনে ফ্রান্সের একটি এবং ইতালির আরেকটি জাহাজ সহায়তা দিতে পারে।

হরমুজ প্রণালী কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালীতে নতুন উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়।

ফলে এই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় নৌমিশনকে আরও সক্রিয় করা দরকার।

নৌমিশনে আরও জাহাজ যোগের আলোচনা

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আরও নৌসামরিক সক্ষমতা যুক্ত করার প্রস্তাব তুলেছেন।

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে কীভাবে আরও দেশ এই মিশনে যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সহায়তা পাঠাতে পারে। এতে করে লোহিত সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

জার্মানির সংশয়

তবে এই মিশনের সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, বর্তমান কাজেই অ্যাসপিডিস মিশন পুরোপুরি কার্যকর নয়।

তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত এই মিশন বাড়ালে নিরাপত্তা আরও বাড়বে—এমন ধারণা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে।

EU to discuss bolstering Middle East naval mission amid Iran war

ফ্রান্স ইতোমধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রণালী রক্ষায় একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্রিটেনও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এককভাবে এই উদ্যোগে অংশ নেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ অ্যাসপিডিস মিশনের ম্যান্ডেট পরিবর্তন করতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন।

এ কারণে হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি নিরাপত্তা দায়িত্ব নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।