মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছেন এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে নৌবাহিনী পাঠাতে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার ক্ষমতা বজায় রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে। বিশ্ব তেলের সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।
হরমুজ নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন ইতিমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করে। তাঁর মতে, যেসব দেশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল আমদানি করে, তাদেরই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রক্ষার দায়িত্ব নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এই জলপথ থেকেই বহু দেশ তাদের জ্বালানি সংগ্রহ করে, তাই এটিকে নিরাপদ রাখা তাদের নিজেদের স্বার্থের সঙ্গেই জড়িত। বিভিন্ন দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এই প্রণালী দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে যায়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ
ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিও চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি সামরিক জোটের সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করে, তবে ভবিষ্যতে সেই জোটের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তার মতে, এই সংকট শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—মার্কিন আশাবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনই যুদ্ধ শেষ ঘোষণা করতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
আলোচনা অস্বীকার করল ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে—এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান কখনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চায়নি।

তার ভাষায়, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত তারা।
সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হয়েছে এবং নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবুও তেহরান নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় বলেই দাবি করছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যদিও কিছু জাহাজ সীমিতভাবে চলাচল করছে, তবে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে।
ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় প্রতি ব্যারেল একশ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির ওপর আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















