০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় মিত্রদের চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প, তেলের দাম কিছুটা কমেছে

বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় অন্যান্য দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই আহ্বানের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে যায়, যদিও দিনের শুরুতে দাম বেড়েছিল।

সোমবার জিএমটি সময় ০০:৪৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০২ ডলার ৯০ সেন্টে। এর আগে শুক্রবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ২ ডলার ৬৮ সেন্ট।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমেছে ১ ডলার ৭ সেন্ট বা প্রায় এক দশমিক শূন্য আট শতাংশ। এতে ব্যারেলপ্রতি দাম নেমে আসে ৯৭ ডলার ৬৪ সেন্টে। আগের লেনদেনে এই তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়েছিল।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকট

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চলতি মাসে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। ফলে পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

অর্থনৈতিক চাপে জনপ্রিয়তা কমেছে ট্রাম্পের

এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দামই চলতি মাসে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের আহ্বান ও কূটনৈতিক তৎপরতা

রোববার ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটন আলোচনা করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তবে সংঘাত শেষ করতে তেহরান বাস্তবসম্মত আলোচনায় প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নতুন হামলার হুমকি

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে আরও হামলার হুমকি দেন। এর আগে সেখানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। জবাবে তেহরান আরও পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়।

খার্গ দ্বীপ ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।

ইতিহাস সৃষ্টি করে ওমান সাগরের টার্মিনালে তেল পাঠালো ইরান

সংঘাতের বিস্তার

খার্গ দ্বীপে হামলার কিছুক্ষণ পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে ইরানি ড্রোন হামলা চালায়। পরে সেখানে তেল লোডিং কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে বলে চারটি সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালীর বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল মুরবান ক্রুড তেল রপ্তানি হয়, যা বিশ্বব্যাপী মোট চাহিদার প্রায় এক শতাংশের সমান।

সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা

এক বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক এরিক মেয়ারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় অভিযান চালানো, খার্গ দ্বীপের তেল কেন্দ্র দখল করা অথবা হরমুজ প্রণালী রক্ষায় দক্ষিণ ইরানে সেনা মোতায়েনের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে।

তার মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে এবং এতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।

বাজার স্থিতিশীল করতে তেলের মজুত ছাড়

EIA Forecasts Rising Oil Prices in 2021

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেলের মজুত ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মজুত মার্চের শেষের দিকে বাজারে আসবে বলে জানানো হয়েছে।

বাজারে অনিশ্চয়তা

সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করলেও এখনো স্পষ্ট কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তার আশা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শেষ হবে। তখন তেলের সরবরাহ আবার বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যয়ও কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তায় মিত্রদের চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প, তেলের দাম কিছুটা কমেছে

০৫:০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় অন্যান্য দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই আহ্বানের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে যায়, যদিও দিনের শুরুতে দাম বেড়েছিল।

সোমবার জিএমটি সময় ০০:৪৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০২ ডলার ৯০ সেন্টে। এর আগে শুক্রবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ২ ডলার ৬৮ সেন্ট।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমেছে ১ ডলার ৭ সেন্ট বা প্রায় এক দশমিক শূন্য আট শতাংশ। এতে ব্যারেলপ্রতি দাম নেমে আসে ৯৭ ডলার ৬৪ সেন্টে। আগের লেনদেনে এই তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়েছিল।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকট

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় চলতি মাসে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়। ফলে পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

অর্থনৈতিক চাপে জনপ্রিয়তা কমেছে ট্রাম্পের

এই পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দামই চলতি মাসে ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

ট্রাম্পের আহ্বান ও কূটনৈতিক তৎপরতা

রোববার ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটন আলোচনা করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তবে সংঘাত শেষ করতে তেহরান বাস্তবসম্মত আলোচনায় প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

নতুন হামলার হুমকি

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপে অবস্থিত প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে আরও হামলার হুমকি দেন। এর আগে সেখানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। জবাবে তেহরান আরও পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়।

খার্গ দ্বীপ ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।

ইতিহাস সৃষ্টি করে ওমান সাগরের টার্মিনালে তেল পাঠালো ইরান

সংঘাতের বিস্তার

খার্গ দ্বীপে হামলার কিছুক্ষণ পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে ইরানি ড্রোন হামলা চালায়। পরে সেখানে তেল লোডিং কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে বলে চারটি সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালীর বাইরে অবস্থিত ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল মুরবান ক্রুড তেল রপ্তানি হয়, যা বিশ্বব্যাপী মোট চাহিদার প্রায় এক শতাংশের সমান।

সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা

এক বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক এরিক মেয়ারসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় অভিযান চালানো, খার্গ দ্বীপের তেল কেন্দ্র দখল করা অথবা হরমুজ প্রণালী রক্ষায় দক্ষিণ ইরানে সেনা মোতায়েনের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে।

তার মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে এবং এতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে।

বাজার স্থিতিশীল করতে তেলের মজুত ছাড়

EIA Forecasts Rising Oil Prices in 2021

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেলের মজুত ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মজুত মার্চের শেষের দিকে বাজারে আসবে বলে জানানো হয়েছে।

বাজারে অনিশ্চয়তা

সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করলেও এখনো স্পষ্ট কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তার আশা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শেষ হবে। তখন তেলের সরবরাহ আবার বাড়বে এবং জ্বালানি ব্যয়ও কমে আসবে।