০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ ঢাকায় আটক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা ভারতের বাজারে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই হোন্ডার, নতুন এসইউভি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বাজি নগরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ: পলাশীর প্রতিরোধের অজানা ইতিহাস ব্যারিকেড, রক্ত আর সাহসের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায় ইসরায়েলের ‘শিরশ্ছেদ’ কৌশলে ফাটল? ইরানে নেতৃত্ব হত্যা বাড়ালেও জোরদার হচ্ছে কঠোরপন্থা

নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে রক্ষা করবেন: অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ

অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা কিংবা চারপাশের উদ্বেগ—এসব বিষয় শিশুদের কাছে সবসময় পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু বড়দের আচরণ ও আবেগের পরিবর্তন তারা সহজেই অনুভব করতে পারে। বিশেষ করে নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনিশ্চয়তা শিশুদের মনে কী প্রভাব ফেলে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের মধ্যে অটিজম, মনোযোগ ঘাটতি বা অন্যান্য স্নায়ুবৈচিত্র্যের কারণে তারা আবেগ ও অনিশ্চয়তার সংকেত অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি তীব্রভাবে গ্রহণ করে। ফলে চারপাশে উদ্বেগপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলে তারা সহজেই অস্থির হয়ে পড়তে পারে।

অনেক সময় শিশুরা খবর বা পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তারা অনুভব করতে পারে যে বড়রা উদ্বিগ্ন বা অস্বস্তিতে আছে। এতে তাদের মনে পৃথিবীকে অনিরাপদ মনে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

Embracing Neurodiversity | Supporting Neurodivergent Children | An  Interdisciplinary Team Approach

দুশ্চিন্তার লক্ষণ কীভাবে বোঝা যায়
শিশুরা সবসময় কথায় তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে না। তাই আচরণে পরিবর্তনই অনেক সময় প্রধান সংকেত হয়ে ওঠে।

কিছু শিশু হঠাৎ করে বেশি আঁকড়ে ধরতে শুরু করতে পারে, কেউ কেউ ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন বা অতিরিক্ত কান্নার মতো লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার আগে যে দক্ষতা তারা অর্জন করেছিল, সেটিও কিছু সময়ের জন্য কমে যেতে পারে। কখনও দেখা যায় তারা আগের মতো খেলাধুলা বা পছন্দের কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তনকে খারাপ আচরণ হিসেবে দেখার বদলে এটি যে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া—তা বোঝা জরুরি।

শব্দ, খবর ও তথ্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা
অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু তথ্যকে খুব সরাসরি অর্থে গ্রহণ করে। ফলে ভয়ের খবর বা উত্তেজনাপূর্ণ তথ্য তারা বাস্তব ও তাৎক্ষণিক বিপদ হিসেবে কল্পনা করতে পারে।

অন্যদিকে মনোযোগ ঘাটতিযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক তথ্য থেকে মন সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একবার তারা এ ধরনের বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিলে তা থেকে বের হওয়া তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।

Supporting neurodivergent children: tailored approaches for thriving at  home and beyond - Early Start Australia

নিয়মিত রুটিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের জন্য দৈনন্দিন রুটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সময়সূচি তাদের মনে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমানের অনুভূতি তৈরি করে।

হঠাৎ করে সময়সূচি বদলে গেলে শিশুদের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি নষ্ট হতে পারে। তখন তারা সহজেই বিরক্তি, আবেগের বিস্ফোরণ বা আচরণগত সমস্যায় ভুগতে পারে।

আচরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বার্তা
যেসব শিশু কথা বলে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা ও আচরণই হয়ে ওঠে যোগাযোগের মাধ্যম।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। অস্থিরতা, আগ্রহ কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ অনেক সময়ই শিশুর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।

বাড়িকে নিরাপদ সংবেদনশীল পরিবেশে পরিণত করা
বিশেষজ্ঞরা বাড়িতে একটি শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেন। নরম আলো, আরামদায়ক কম্বল, প্রিয় খেলনা বা পরিচিত জিনিসপত্র শিশুকে শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে।

নিয়মিত ঘুম, খাবার ও পড়াশোনার সময় বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করে সময়সূচি বোঝানো অনেক শিশুর জন্য সহায়ক হতে পারে।

How to Support a Neurodivergent Child | Children's Hospital Colorado

শিশুকে শান্ত রাখতে সহায়ক কিছু উপায়
সঙ্গীত, হালকা ব্যায়াম, গল্প পড়া বা বাইরে খেলাধুলার মতো কার্যক্রম শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এসব কার্যক্রম স্নায়ুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনেক পরিবারের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিশুর পছন্দের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত করলে সে দ্রুত শান্ত হতে পারে।

অভিভাবকদের মানসিক স্থিতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শিশুরা বড়দের আবেগ খুব সহজেই অনুভব করে। তাই অভিভাবকদের নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর জন্য নিখুঁত অভিভাবক হওয়ার দরকার নেই। বরং শান্ত ও স্থিতিশীল থাকা একজন অভিভাবকই শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

Supporting Your Neurodivergent Child: A Parent's Guide to Embracing  Different Ways of Thinking | Shift Collab

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ

নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে রক্ষা করবেন: অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ

০৫:১৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা কিংবা চারপাশের উদ্বেগ—এসব বিষয় শিশুদের কাছে সবসময় পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না। কিন্তু বড়দের আচরণ ও আবেগের পরিবর্তন তারা সহজেই অনুভব করতে পারে। বিশেষ করে নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সময়ে শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনিশ্চয়তা শিশুদের মনে কী প্রভাব ফেলে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের মধ্যে অটিজম, মনোযোগ ঘাটতি বা অন্যান্য স্নায়ুবৈচিত্র্যের কারণে তারা আবেগ ও অনিশ্চয়তার সংকেত অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি তীব্রভাবে গ্রহণ করে। ফলে চারপাশে উদ্বেগপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলে তারা সহজেই অস্থির হয়ে পড়তে পারে।

অনেক সময় শিশুরা খবর বা পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও তারা অনুভব করতে পারে যে বড়রা উদ্বিগ্ন বা অস্বস্তিতে আছে। এতে তাদের মনে পৃথিবীকে অনিরাপদ মনে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

Embracing Neurodiversity | Supporting Neurodivergent Children | An  Interdisciplinary Team Approach

দুশ্চিন্তার লক্ষণ কীভাবে বোঝা যায়
শিশুরা সবসময় কথায় তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে না। তাই আচরণে পরিবর্তনই অনেক সময় প্রধান সংকেত হয়ে ওঠে।

কিছু শিশু হঠাৎ করে বেশি আঁকড়ে ধরতে শুরু করতে পারে, কেউ কেউ ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন বা অতিরিক্ত কান্নার মতো লক্ষণ দেখাতে পারে। আবার আগে যে দক্ষতা তারা অর্জন করেছিল, সেটিও কিছু সময়ের জন্য কমে যেতে পারে। কখনও দেখা যায় তারা আগের মতো খেলাধুলা বা পছন্দের কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তনকে খারাপ আচরণ হিসেবে দেখার বদলে এটি যে মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া—তা বোঝা জরুরি।

শব্দ, খবর ও তথ্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা
অটিজমে আক্রান্ত অনেক শিশু তথ্যকে খুব সরাসরি অর্থে গ্রহণ করে। ফলে ভয়ের খবর বা উত্তেজনাপূর্ণ তথ্য তারা বাস্তব ও তাৎক্ষণিক বিপদ হিসেবে কল্পনা করতে পারে।

অন্যদিকে মনোযোগ ঘাটতিযুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক তথ্য থেকে মন সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একবার তারা এ ধরনের বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিলে তা থেকে বের হওয়া তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।

Supporting neurodivergent children: tailored approaches for thriving at  home and beyond - Early Start Australia

নিয়মিত রুটিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউরোডাইভার্জেন্ট শিশুদের জন্য দৈনন্দিন রুটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সময়সূচি তাদের মনে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমানের অনুভূতি তৈরি করে।

হঠাৎ করে সময়সূচি বদলে গেলে শিশুদের নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি নষ্ট হতে পারে। তখন তারা সহজেই বিরক্তি, আবেগের বিস্ফোরণ বা আচরণগত সমস্যায় ভুগতে পারে।

আচরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বার্তা
যেসব শিশু কথা বলে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা ও আচরণই হয়ে ওঠে যোগাযোগের মাধ্যম।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। অস্থিরতা, আগ্রহ কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ অনেক সময়ই শিশুর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।

বাড়িকে নিরাপদ সংবেদনশীল পরিবেশে পরিণত করা
বিশেষজ্ঞরা বাড়িতে একটি শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দেন। নরম আলো, আরামদায়ক কম্বল, প্রিয় খেলনা বা পরিচিত জিনিসপত্র শিশুকে শান্ত থাকতে সাহায্য করতে পারে।

নিয়মিত ঘুম, খাবার ও পড়াশোনার সময় বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করে সময়সূচি বোঝানো অনেক শিশুর জন্য সহায়ক হতে পারে।

How to Support a Neurodivergent Child | Children's Hospital Colorado

শিশুকে শান্ত রাখতে সহায়ক কিছু উপায়
সঙ্গীত, হালকা ব্যায়াম, গল্প পড়া বা বাইরে খেলাধুলার মতো কার্যক্রম শিশুদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এসব কার্যক্রম স্নায়ুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনেক পরিবারের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শিশুর পছন্দের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত করলে সে দ্রুত শান্ত হতে পারে।

অভিভাবকদের মানসিক স্থিতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, শিশুরা বড়দের আবেগ খুব সহজেই অনুভব করে। তাই অভিভাবকদের নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর জন্য নিখুঁত অভিভাবক হওয়ার দরকার নেই। বরং শান্ত ও স্থিতিশীল থাকা একজন অভিভাবকই শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

Supporting Your Neurodivergent Child: A Parent's Guide to Embracing  Different Ways of Thinking | Shift Collab