মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যেসব দেশকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত সতর্ক ও সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এসব দেশ সরাসরি জড়িত না থাকলেও ট্রাম্প তাদের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা যেন এই জলপথ রক্ষায় এবং পুনরায় চালু করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।
ব্রিটেনের অবস্থান
ব্রিটেন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে ভাবছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, এ বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করা এবং সংঘাত কমানোই এই সংকট সমাধানের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।
জাপানের সতর্কতা
জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান বিদেশি যুদ্ধে সামরিক অংশগ্রহণকে সীমিত করে। এ কারণে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হলে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হবে।
জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে জাপানকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
এ বিষয়টি নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ওয়াশিংটনে আসন্ন বৈঠকেও আলোচনা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখবে। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি সিউল।

চীনের অবস্থান
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে বেইজিং বারবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ফ্রান্সের অবস্থান
ফ্রান্সও এখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ফ্রান্স তার নৌবাহিনী ব্যবহার করে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে পারে।
গত সপ্তাহে ম্যাক্রোঁ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তেহরানকে স্পষ্টভাবে জানান, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া জরুরি।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের বহু দেশের তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশই চায় দ্রুত এই জলপথ আবার চালু হোক। তবে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















