হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে আমদানি সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধাক্কায় পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল—সবকিছুর জন্য এখন বিকল্প পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে আমদানিকারকরা। নতুন রুটে পণ্য ঘোরাতে গিয়ে খরচ বাড়ছে, সময় লাগছে বেশি, আর বন্দরগুলোতে তৈরি হচ্ছে তীব্র জট।
সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শুধু তেল রপ্তানিই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের আমদানি নির্ভর অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অঞ্চলটির প্রায় সত্তর শতাংশ খাদ্য এই পথ দিয়েই প্রবেশ করে, ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে।

বিকল্প রুটে বাড়তি খরচ
বন্দর পরিবর্তন করে পণ্য আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপথের তুলনায় স্থলপথে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক জাহাজ নির্ধারিত গন্তব্য বদলে অন্য বন্দরে যাচ্ছে, আবার কিছু চালান পুরো অঞ্চল এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে ঝুঁকিতে
নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় খাদ্যপণ্য সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে হাজার হাজার টন ফলমূল মাঝপথে আটকে আছে, যা দ্রুত বিকল্প বন্দরে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে কাগজপত্র ও অনুমোদনের জটিলতায় এই প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে না। বিলম্ব বাড়লে এসব পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

ছোট বন্দরে চাপ ও জট
হরমুজের বাইরে থাকা কিছু বন্দর এখন বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এসব বন্দরের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সেখানে জট তৈরি হচ্ছে। কাজের সময় বাড়ানো ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পণ্য ছাড়তে সময় বেশি লাগছে। একই সঙ্গে ট্রাক পরিবহনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সীমান্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে বিলম্ব আরও বাড়ছে।
নিরাপদ পথও ঝুঁকিতে
বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বন্দরগুলোও নিরাপদ নয়। বিভিন্ন হামলার কারণে এসব পথও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। কিছু প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে আকাশপথে পণ্য আনছে, যদিও সেখানেও হামলার প্রভাব পড়েছে এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
সংকটেও ঘাটতির আশঙ্কা কম
এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এখনো বড় ধরনের পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের মজুতের ওপর ভর করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান ও লোহিত সাগরঘেঁষা বন্দরগুলো ব্যবহার করে নতুন সরবরাহ পথ তৈরি করা হচ্ছে।
এই সংকট স্পষ্ট করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে শুধু জ্বালানি নয়, পুরো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাই কতটা নাজুক হয়ে পড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















