০৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
কূটনীতি নয়, রাজনৈতিক উসকানি তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানচিত্র সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, চারজনকে ঠেকিয়ে দিল বিজিবি ইউরোপের পোশাকবাজারে ধাক্কা, প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমল ১৬ শতাংশ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে পাকিস্তানকে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর মাস্তাংয়ে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বহরে হামলা, আহত ৬ নিরাপত্তাকর্মী পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা রাজনীতির ময়দানে ফের বিতর্ক: বিজয়ের মাকে নিয়ে নাইনর নাগেন্দ্রনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা ইন্দোনেশিয়ায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬.৯ মাত্রার কম্পনে কাঁপল উত্তর সুমাত্রা

শিশুর দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারে অটিজম ঝুঁকি বাড়ছে, বলছে নতুন গবেষণা

ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল পর্দার সামনে রাখা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি সময় স্ক্রিনে থাকা টডলারদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বাস্তব চিত্র

গবেষণায় ১৭ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারের গড় সময় পাওয়া গেছে এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সপ্তাহান্তে এই সময় বেড়ে দাঁড়ায় এক ঘণ্টা ২৬ মিনিটে। অথচ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন একেবারেই নয়, আর ১৮ মাস থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে এক ঘণ্টার কম হওয়া উচিত।

Study: Less screen time, more play may could reduce autism-like symptoms as  kids age - UPI.com

 

যোগাযোগ দক্ষতায় বড় প্রভাব

গবেষণাটি বলছে, দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুরা আগ্রহ দেখাতে আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করছে না, খেলনা দেখাচ্ছে না, কিংবা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না। এগুলো অটিজম ঝুঁকির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

ভাষা বিকাশে বাধা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ভাষা শেখার মূল ভিত্তি হলো অভিভাবকের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও মিথস্ক্রিয়া। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটালে সেই পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যায়। ফলে ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠায় বাধা তৈরি হয়। শিশুর বয়স যত কম, এই প্রভাব তত বেশি স্পষ্ট হয়।

Prolonged digital screen use linked to higher chance of autism symptoms in  toddlers: NUH study, Singapore News - AsiaOne

 

অন্যান্য দক্ষতায় তেমন প্রভাব নয়

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মোটর দক্ষতা বা দৈনন্দিন শব্দে অতিরিক্ত বিরক্তির মতো সংবেদনশীল সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রভাবটি মূলত সামাজিক ও ভাষাগত দিকেই বেশি সীমাবদ্ধ।

পারিবারিক প্রভাব ও বৈষম্য

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, পরিবারের শিক্ষাগত ও সামাজিক অবস্থানও স্ক্রিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চশিক্ষিত অভিভাবকদের সন্তানদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় তুলনামূলক কম। কারণ তারা সচেতনতা, নিয়ম তৈরি এবং বিকল্প কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেন।

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নিয়ে নতুন আলোচনা

গবেষণায় “ভার্চুয়াল অটিজম” নামে পরিচিত একটি বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে কিছু শিশু অটিজমের মতো লক্ষণ দেখাতে পারে, তবে স্ক্রিন কমিয়ে দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

Screen Time and Autism Spectrum Disorder: What to Know and Avoid

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কূটনীতি নয়, রাজনৈতিক উসকানি

শিশুর দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারে অটিজম ঝুঁকি বাড়ছে, বলছে নতুন গবেষণা

১২:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল পর্দার সামনে রাখা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি সময় স্ক্রিনে থাকা টডলারদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বাস্তব চিত্র

গবেষণায় ১৭ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারের গড় সময় পাওয়া গেছে এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সপ্তাহান্তে এই সময় বেড়ে দাঁড়ায় এক ঘণ্টা ২৬ মিনিটে। অথচ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন একেবারেই নয়, আর ১৮ মাস থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে এক ঘণ্টার কম হওয়া উচিত।

Study: Less screen time, more play may could reduce autism-like symptoms as  kids age - UPI.com

 

যোগাযোগ দক্ষতায় বড় প্রভাব

গবেষণাটি বলছে, দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুরা আগ্রহ দেখাতে আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করছে না, খেলনা দেখাচ্ছে না, কিংবা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না। এগুলো অটিজম ঝুঁকির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

ভাষা বিকাশে বাধা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ভাষা শেখার মূল ভিত্তি হলো অভিভাবকের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও মিথস্ক্রিয়া। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটালে সেই পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যায়। ফলে ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠায় বাধা তৈরি হয়। শিশুর বয়স যত কম, এই প্রভাব তত বেশি স্পষ্ট হয়।

Prolonged digital screen use linked to higher chance of autism symptoms in  toddlers: NUH study, Singapore News - AsiaOne

 

অন্যান্য দক্ষতায় তেমন প্রভাব নয়

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মোটর দক্ষতা বা দৈনন্দিন শব্দে অতিরিক্ত বিরক্তির মতো সংবেদনশীল সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রভাবটি মূলত সামাজিক ও ভাষাগত দিকেই বেশি সীমাবদ্ধ।

পারিবারিক প্রভাব ও বৈষম্য

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, পরিবারের শিক্ষাগত ও সামাজিক অবস্থানও স্ক্রিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চশিক্ষিত অভিভাবকদের সন্তানদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় তুলনামূলক কম। কারণ তারা সচেতনতা, নিয়ম তৈরি এবং বিকল্প কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেন।

‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নিয়ে নতুন আলোচনা

গবেষণায় “ভার্চুয়াল অটিজম” নামে পরিচিত একটি বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে কিছু শিশু অটিজমের মতো লক্ষণ দেখাতে পারে, তবে স্ক্রিন কমিয়ে দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

Screen Time and Autism Spectrum Disorder: What to Know and Avoid

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।