ছোট শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল পর্দার সামনে রাখা তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি সময় স্ক্রিনে থাকা টডলারদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বাস্তব চিত্র
গবেষণায় ১৭ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের দৈনিক স্ক্রিন ব্যবহারের গড় সময় পাওয়া গেছে এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সপ্তাহান্তে এই সময় বেড়ে দাঁড়ায় এক ঘণ্টা ২৬ মিনিটে। অথচ স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন একেবারেই নয়, আর ১৮ মাস থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে দিনে এক ঘণ্টার কম হওয়া উচিত।
যোগাযোগ দক্ষতায় বড় প্রভাব
গবেষণাটি বলছে, দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুরা আগ্রহ দেখাতে আঙুল দিয়ে কিছু নির্দেশ করছে না, খেলনা দেখাচ্ছে না, কিংবা নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না। এগুলো অটিজম ঝুঁকির প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
ভাষা বিকাশে বাধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ভাষা শেখার মূল ভিত্তি হলো অভিভাবকের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন ও মিথস্ক্রিয়া। কিন্তু স্ক্রিনে সময় কাটালে সেই পারস্পরিক যোগাযোগ কমে যায়। ফলে ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠায় বাধা তৈরি হয়। শিশুর বয়স যত কম, এই প্রভাব তত বেশি স্পষ্ট হয়।

অন্যান্য দক্ষতায় তেমন প্রভাব নয়
গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মোটর দক্ষতা বা দৈনন্দিন শব্দে অতিরিক্ত বিরক্তির মতো সংবেদনশীল সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ প্রভাবটি মূলত সামাজিক ও ভাষাগত দিকেই বেশি সীমাবদ্ধ।
পারিবারিক প্রভাব ও বৈষম্য
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, পরিবারের শিক্ষাগত ও সামাজিক অবস্থানও স্ক্রিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চশিক্ষিত অভিভাবকদের সন্তানদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় তুলনামূলক কম। কারণ তারা সচেতনতা, নিয়ম তৈরি এবং বিকল্প কার্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেন।
‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নিয়ে নতুন আলোচনা
গবেষণায় “ভার্চুয়াল অটিজম” নামে পরিচিত একটি বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে কিছু শিশু অটিজমের মতো লক্ষণ দেখাতে পারে, তবে স্ক্রিন কমিয়ে দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণা শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















