শিশুর হাতে থাকা মোবাইল বা ট্যাব হঠাৎ সরিয়ে নিলেই শুরু হয় কান্না, চিৎকার, এমনকি জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। অনেক অভিভাবকের কাছে এটি এখন নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি খারাপ আচরণ নয়, বরং শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সঠিক কৌশল জানলে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।
স্ক্রিন সরালেই কেন এমন প্রতিক্রিয়া
শিশুরা যখন স্ক্রিনে ভিডিও বা গেম দেখে, তখন তাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। হঠাৎ স্ক্রিন বন্ধ হয়ে গেলে সেই আনন্দ কমে যায়, ফলে তারা বিরক্ত, হতাশ বা রাগান্বিত হয়ে পড়ে। বড়রা কথায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারলেও ছোটরা তা পারে না। তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই হঠাৎ পরিবর্তন তারা সহজে নিতে পারে না এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে।

নিয়মে স্থিরতা না থাকলে সমস্যা বাড়ে
শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মের ধারাবাহিকতা। কখনো নিয়ম মানা, আবার কখনো ছাড় দিলে শিশু বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে কান্না বা রাগ দেখিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, যেমন প্রতিদিন খাবারের আগে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন ব্যবহার, শিশুকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া—এসব বিষয় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সময় শেষের সংকেতও গুরুত্বপূর্ণ
শিশুকে হঠাৎ স্ক্রিন থেকে সরিয়ে না নিয়ে আগে থেকেই সংকেত দেওয়া জরুরি। ঘড়ির কাঁটা, এলার্ম বা নির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত শিশুদের বুঝতে সাহায্য করে কখন থামতে হবে। বিশেষ করে ছোটদের জন্য দৃশ্যমান সংকেত বেশি কার্যকর। এতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং বিরক্তি কমে।
জনসমক্ষে মেল্টডাউন হলে কী করবেন
অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন শিশু ইচ্ছা করে লজ্জায় ফেলছে। কিন্তু বাস্তবে শিশুরা সীমা পরীক্ষা করে, কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। রাগ দেখানো বা বকাঝকা করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সম্ভব হলে শিশুকে একটু নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গিয়ে সময় দেওয়া ভালো।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো কান্না থামাতে আবার স্ক্রিন দিয়ে দেওয়া। এতে শিশুর মনে স্থায়ী ধারণা তৈরি হয় যে কান্না করলেই সে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে।
শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
শিশু যখন রাগ বা কান্না করে, তখন তার অনুভূতিকে অস্বীকার না করে স্বীকার করা জরুরি। তাকে বোঝানো যেতে পারে যে তার কষ্ট বা বিরক্তি স্বাভাবিক, তবে নিয়মও মানতে হবে। এতে শিশু নিজেকে বোঝা ও নিরাপদ মনে করে।
আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখাতে কী করবেন
শিশুকে নিজের আবেগ চিনতে শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগ, দুঃখ বা হতাশা—এই অনুভূতিগুলো চিহ্নিত করতে পারলে সে ধীরে ধীরে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেও শিখবে। পাশাপাশি শিশুকে নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে সে তা মানতে বেশি আগ্রহী হয়।
স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে খেলনা, বই বা আঁকার সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এতে শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে সরানো সহজ হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে সহজভাবে বোঝালে শিশুর মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।
শেষ পর্যন্ত বার্তাটি স্পষ্ট—ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং সহানুভূতিই শিশুর স্ক্রিন মেল্টডাউন সামলানোর মূল চাবিকাঠি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















