০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানচিত্র সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, চারজনকে ঠেকিয়ে দিল বিজিবি ইউরোপের পোশাকবাজারে ধাক্কা, প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমল ১৬ শতাংশ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে পাকিস্তানকে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর মাস্তাংয়ে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বহরে হামলা, আহত ৬ নিরাপত্তাকর্মী পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা রাজনীতির ময়দানে ফের বিতর্ক: বিজয়ের মাকে নিয়ে নাইনর নাগেন্দ্রনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা ইন্দোনেশিয়ায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬.৯ মাত্রার কম্পনে কাঁপল উত্তর সুমাত্রা পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারত নয়, পাকিস্তানেই থাকতে চান—জারদারির দাবি

স্ক্রিন বন্ধ করতেই শিশুর কান্না-রাগ? জনসমক্ষে মেল্টডাউন সামলাতে যা জানা জরুরি

শিশুর হাতে থাকা মোবাইল বা ট্যাব হঠাৎ সরিয়ে নিলেই শুরু হয় কান্না, চিৎকার, এমনকি জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। অনেক অভিভাবকের কাছে এটি এখন নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি খারাপ আচরণ নয়, বরং শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সঠিক কৌশল জানলে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।

স্ক্রিন সরালেই কেন এমন প্রতিক্রিয়া

শিশুরা যখন স্ক্রিনে ভিডিও বা গেম দেখে, তখন তাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। হঠাৎ স্ক্রিন বন্ধ হয়ে গেলে সেই আনন্দ কমে যায়, ফলে তারা বিরক্ত, হতাশ বা রাগান্বিত হয়ে পড়ে। বড়রা কথায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারলেও ছোটরা তা পারে না। তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই হঠাৎ পরিবর্তন তারা সহজে নিতে পারে না এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে।

Calming with electronic media: Does screen time cause tantrums? - PARENTING  SCIENCE

নিয়মে স্থিরতা না থাকলে সমস্যা বাড়ে

শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মের ধারাবাহিকতা। কখনো নিয়ম মানা, আবার কখনো ছাড় দিলে শিশু বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে কান্না বা রাগ দেখিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, যেমন প্রতিদিন খাবারের আগে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন ব্যবহার, শিশুকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া—এসব বিষয় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সময় শেষের সংকেতও গুরুত্বপূর্ণ

শিশুকে হঠাৎ স্ক্রিন থেকে সরিয়ে না নিয়ে আগে থেকেই সংকেত দেওয়া জরুরি। ঘড়ির কাঁটা, এলার্ম বা নির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত শিশুদের বুঝতে সাহায্য করে কখন থামতে হবে। বিশেষ করে ছোটদের জন্য দৃশ্যমান সংকেত বেশি কার্যকর। এতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং বিরক্তি কমে।

How to take a screen away from your kid without a raging meltdown | by  Alexandra Samuel | Medium

জনসমক্ষে মেল্টডাউন হলে কী করবেন

অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন শিশু ইচ্ছা করে লজ্জায় ফেলছে। কিন্তু বাস্তবে শিশুরা সীমা পরীক্ষা করে, কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। রাগ দেখানো বা বকাঝকা করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সম্ভব হলে শিশুকে একটু নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গিয়ে সময় দেওয়া ভালো।

সবচেয়ে বড় ভুল হলো কান্না থামাতে আবার স্ক্রিন দিয়ে দেওয়া। এতে শিশুর মনে স্থায়ী ধারণা তৈরি হয় যে কান্না করলেই সে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে।

শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

শিশু যখন রাগ বা কান্না করে, তখন তার অনুভূতিকে অস্বীকার না করে স্বীকার করা জরুরি। তাকে বোঝানো যেতে পারে যে তার কষ্ট বা বিরক্তি স্বাভাবিক, তবে নিয়মও মানতে হবে। এতে শিশু নিজেকে বোঝা ও নিরাপদ মনে করে।

askST: How should I handle my child's public meltdown over screen time? |  The Straits Times

আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখাতে কী করবেন

শিশুকে নিজের আবেগ চিনতে শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগ, দুঃখ বা হতাশা—এই অনুভূতিগুলো চিহ্নিত করতে পারলে সে ধীরে ধীরে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেও শিখবে। পাশাপাশি শিশুকে নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে সে তা মানতে বেশি আগ্রহী হয়।

স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে খেলনা, বই বা আঁকার সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এতে শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে সরানো সহজ হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে সহজভাবে বোঝালে শিশুর মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত বার্তাটি স্পষ্ট—ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং সহানুভূতিই শিশুর স্ক্রিন মেল্টডাউন সামলানোর মূল চাবিকাঠি।

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা

স্ক্রিন বন্ধ করতেই শিশুর কান্না-রাগ? জনসমক্ষে মেল্টডাউন সামলাতে যা জানা জরুরি

১২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

শিশুর হাতে থাকা মোবাইল বা ট্যাব হঠাৎ সরিয়ে নিলেই শুরু হয় কান্না, চিৎকার, এমনকি জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। অনেক অভিভাবকের কাছে এটি এখন নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি খারাপ আচরণ নয়, বরং শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। সঠিক কৌশল জানলে এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।

স্ক্রিন সরালেই কেন এমন প্রতিক্রিয়া

শিশুরা যখন স্ক্রিনে ভিডিও বা গেম দেখে, তখন তাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি হয়। হঠাৎ স্ক্রিন বন্ধ হয়ে গেলে সেই আনন্দ কমে যায়, ফলে তারা বিরক্ত, হতাশ বা রাগান্বিত হয়ে পড়ে। বড়রা কথায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারলেও ছোটরা তা পারে না। তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই হঠাৎ পরিবর্তন তারা সহজে নিতে পারে না এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে।

Calming with electronic media: Does screen time cause tantrums? - PARENTING  SCIENCE

নিয়মে স্থিরতা না থাকলে সমস্যা বাড়ে

শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মের ধারাবাহিকতা। কখনো নিয়ম মানা, আবার কখনো ছাড় দিলে শিশু বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে কান্না বা রাগ দেখিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, যেমন প্রতিদিন খাবারের আগে নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন ব্যবহার, শিশুকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া—এসব বিষয় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সময় শেষের সংকেতও গুরুত্বপূর্ণ

শিশুকে হঠাৎ স্ক্রিন থেকে সরিয়ে না নিয়ে আগে থেকেই সংকেত দেওয়া জরুরি। ঘড়ির কাঁটা, এলার্ম বা নির্দিষ্ট সময়ের ইঙ্গিত শিশুদের বুঝতে সাহায্য করে কখন থামতে হবে। বিশেষ করে ছোটদের জন্য দৃশ্যমান সংকেত বেশি কার্যকর। এতে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং বিরক্তি কমে।

How to take a screen away from your kid without a raging meltdown | by  Alexandra Samuel | Medium

জনসমক্ষে মেল্টডাউন হলে কী করবেন

অনেক সময় অভিভাবকরা মনে করেন শিশু ইচ্ছা করে লজ্জায় ফেলছে। কিন্তু বাস্তবে শিশুরা সীমা পরীক্ষা করে, কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে না। তাই এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা সবচেয়ে জরুরি। রাগ দেখানো বা বকাঝকা করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সম্ভব হলে শিশুকে একটু নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে গিয়ে সময় দেওয়া ভালো।

সবচেয়ে বড় ভুল হলো কান্না থামাতে আবার স্ক্রিন দিয়ে দেওয়া। এতে শিশুর মনে স্থায়ী ধারণা তৈরি হয় যে কান্না করলেই সে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে।

শিশুর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

শিশু যখন রাগ বা কান্না করে, তখন তার অনুভূতিকে অস্বীকার না করে স্বীকার করা জরুরি। তাকে বোঝানো যেতে পারে যে তার কষ্ট বা বিরক্তি স্বাভাবিক, তবে নিয়মও মানতে হবে। এতে শিশু নিজেকে বোঝা ও নিরাপদ মনে করে।

askST: How should I handle my child's public meltdown over screen time? |  The Straits Times

আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখাতে কী করবেন

শিশুকে নিজের আবেগ চিনতে শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগ, দুঃখ বা হতাশা—এই অনুভূতিগুলো চিহ্নিত করতে পারলে সে ধীরে ধীরে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেও শিখবে। পাশাপাশি শিশুকে নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে সে তা মানতে বেশি আগ্রহী হয়।

স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে খেলনা, বই বা আঁকার সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এতে শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে সরানো সহজ হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে সহজভাবে বোঝালে শিশুর মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত বার্তাটি স্পষ্ট—ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং সহানুভূতিই শিশুর স্ক্রিন মেল্টডাউন সামলানোর মূল চাবিকাঠি।