ভারতজুড়ে হঠাৎ করেই তীব্র আকার ধারণ করেছে রান্নার গ্যাস সংকট। দেশজুড়ে বহু শহর ও গ্রামে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ পর্যন্ত সবাই পড়েছে বিপাকে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হরমুজ সংকটেই সরবরাহে ধাক্কা
ভারতের ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিস্থিতিকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ বলা হলেও নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্দরে প্রস্তুতি, জাহাজ পৌঁছানোর অপেক্ষা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ ইতিমধ্যে হরমুজ অতিক্রম করে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর কথা। জাহাজ পৌঁছানোর আগেই দ্রুত খালাসের জন্য বন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে বিলম্ব না হয়। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিকল্পে ঝুঁকছে হোটেল ও সাধারণ মানুষ
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দৈনন্দিন জীবনে। বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই কাঠ জ্বালিয়ে রান্না শুরু করেছে। অনেক খাবারের দোকান কম রান্না লাগে এমন খাবারের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ দ্রুত ইন্ডাকশন চুলা কিনতে শুরু করেছে, যার ফলে বাজারে এর চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই বিকল্প রান্নার পদ্ধতি বেছে নিয়েছে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায়।

রাজনীতি ও কালোবাজারির অভিযোগ
সংকট ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগে থেকেই জানা থাকলেও সরকার যথাসময়ে পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার, ছোট ব্যবসা ও রেস্তোরাঁগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে কালোবাজারির অভিযোগও উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে এলপিজি সিলিন্ডার স্বাভাবিক দামের পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিয়মে কড়াকড়ি ও ডিজিটাল বুকিং বৃদ্ধি
সরকার জানিয়েছে, পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ থাকা গ্রাহকদের এলপিজি সংযোগ ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন বুকিংয়ের হারও বেড়েছে, যা দেখায় যে সংকটের মধ্যে মানুষ বিকল্প উপায়ে দ্রুত সেবা নিতে চাইছে।
এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে ভারত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















