এক প্রজন্মে দেখা সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিঘ্ন
ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বাণিজ্যিক শিপিংয়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ৪ মার্চ থেকে মার্কিন ও তার মিত্রদের সঙ্গে সংযুক্ত জাহাজগুলোর জন্য প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং পথ পার হওয়ার চেষ্টা করা ট্যাংকারগুলোতে হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল বহন করে, যা বিশ্বের সমুদ্রপথে মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। ব্রেন্ট ক্রুড প্রাথমিক হামলার পরপরই দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবার। আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তার ৩২ সদস্য দেশের সম্মতিতে জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে এই পদক্ষেপ কেবল সাময়িক সংকট প্রশমন করতে পারবে। প্রণালির বাইরে খোলা সমুদ্রে অন্তত দেড়শো ট্যাংকার নোঙর করে পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছে।
এশিয়া সবচেয়ে বিপদে; বিকল্প পথে ঘাটতি মেটানো সম্ভব নয়
এই সংকট এশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে। এশিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আসে। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলে ২০২৪ সালে প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোগ করেছে। ভিয়েতনামের মজুদ বর্তমান গতিতে মাত্র ২০ দিনের কম সময় চলবে, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মজুদও প্রায় একই পরিমাণ। এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই স্কুল বন্ধ করেছে, কর্মীদের বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে। চীন পূর্ববর্তী কৌশলগত মজুদ এবং রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কারণে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিকল্প পাইপলাইন পথ থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ যে পরিমাণ তেল সরানো যাচ্ছে, তা হরমুজের ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়। ইরাক ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কিছু ট্যাংকার পার হওয়ার অনুমতির চেষ্টা করছে এবং তুরস্কের মধ্য দিয়ে কির্কুক-সেহান পাইপলাইনে রপ্তানি পুনরায় চালু করতে সচেষ্ট। মার্কিন নৌবাহিনী শিপিং কনভয়ে এসকর্ট দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবে সংকীর্ণ জলপথে ইরানি হামলার ঝুঁকি থাকায় এখনো কোনো অভিযান শুরু হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















