নিক্কেই পড়ছে, স্ট্যাগফ্লেশনের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রতিক্রিয়ায় জাপান তার জরুরি তেলমজুদ থেকে প্রায় আট কোটি ব্যারেল অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক নিষ্কাশন। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই ঘোষণা দিয়েছেন। জাপান তার মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯০ শতাংশেরও বেশি উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আনে, তাই বর্তমান সংকটে এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বড় অর্থনীতিগুলোর একটি। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৯ শতাংশেরও বেশি পড়েছে। নিক্কেই এশিয়ায় উদ্ধৃত অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে তেলের মূল্যস্ফীতি ব্যাংক অব জাপানের মূল্য স্থিতিশীলতার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা প্রকৃত মজ্জুরি বৃদ্ধির সরকারি লক্ষ্যকে হুমকিতে ফেলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক চার অধিবেশনে দ্বিতীয়বার সার্কিট ব্রেকার সক্রিয় করেছে, যখন তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছুঁই ছুঁই করছিল। সৌদি আরব তার ইয়ানবু পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যারেল বাজারে ছাড়ার পর পরিস্থিতি সামান্য স্থিতিশীল হয়েছে।

সার, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃষি সংকটে
এশিয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতি কেবল জ্বালানি খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্যরা উদ্বেগ জানিয়েছেন যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সংকটে পড়তে পারে কারণ চিপ তৈরিতে অপরিহার্য হিলিয়াম গ্যাস পার্সিয়ান উপসাগর থেকে সংগ্রহ করা হয়। ফিলিপাইনে জরুরি জ্বালানি সাশ্রয় ব্যবস্থা হিসেবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের মতে শান্তিকালীন সময়ে নজিরবিহীন। ভিয়েতনাম জ্বালানির উপর আমদানি শুল্ক সরিয়ে নিয়েছে। সার সরবরাহও বিপদে পড়েছে কারণ নাইট্রোজেন সার তৈরিতে যে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন তা উপসাগর থেকে মুক্তভাবে আসছে না। ফিলিপাইনের কৃষি বিভাগ বিকল্প হিসেবে জৈব সার নিয়ে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজার মার্কিন বাজারের চেয়ে অনেক বেশি পড়েছে, যা একটি একক সামুদ্রিক শক্তি করিডোরের উপর নির্ভরতার গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে এনেছে। অভ্যন্তরীণ নবায়নযোগ্য শক্তি এখন কেবল পরিবেশ নয়, জাতীয় নিরাপত্তার কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















