মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠলেও ভারতের অর্থনীতি বড় ধাক্কা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, বহুমুখী জ্বালানি কৌশল এবং আগাম প্রস্তুত নীতির কারণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এই অর্থনীতি স্থিতিশীলতা ধরে রাখছে।
তেলের ধাক্কায়ও প্রস্তুত ভারত
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারত সরকারের দাবি, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক দামের চাপ বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কম পড়ে।
দ্রুত প্রবৃদ্ধি দিচ্ছে বড় শক্তি
ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের মোট অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে প্রায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এই গতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
এই শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সরকারকে আর্থিকভাবে বেশি নমনীয়তা দিয়েছে, ফলে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষ তহবিল
সরকার প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের একটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই তহবিলের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি দামের ধাক্কা সামাল দেওয়া। এর মাধ্যমে বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা বজায় রেখেই জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত পরিবর্তন
ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গত কয়েক বছরে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তেলের উৎস বৈচিত্র্য করা, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল আমদানি করে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের চাপ কমানো হয়েছে।
দেশে এখনো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সীমিত রাখতে সাহায্য করছে।
রপ্তানি ও ব্যবসা সুরক্ষায় উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় রপ্তানি খাত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার অতিরিক্ত পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে ফেরত আনার সময়সীমা বাড়ানো, ব্যাংক সুবিধা সহজ করা এবং ঋণ পরিশোধে সাময়িক ছাড় দেওয়ার মতো উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
কর আদায়, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অগ্রগতি
দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের ফলে কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পণ্য ও সেবা কর থেকে রেকর্ড আয় হয়েছে, যা শক্তিশালী ভোগ ও কর ব্যবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ওপর বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতি
রেল, সড়ক ও উচ্চগতির ট্রেন প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় সাফল্য এসেছে, যেখানে অ-জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা মোট ক্ষমতার অর্ধেক ছাড়িয়েছে।
এই সব মিলিয়ে তেলের বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও ভারত তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
Sarakhon Report 

















